বইমেলায় মঈনুদ্দীনের ‘লাল মোরগ’
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০ | ২৬ চৈত্র ১৪২৬

বইমেলায় মঈনুদ্দীনের ‘লাল মোরগ’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০

বইমেলায় মঈনুদ্দীনের ‘লাল মোরগ’

দীর্ঘ ৩১ বছর পর আল-হামরা প্রকাশনী থেকে আবারও প্রকাশ হলো বাংলা শিশুসাহিত্যের অন্যতম দিকপাল খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীনের ‘লাল মোরগ’ বইটি।

বুধবার বিকালে অমর একুশে বইমেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে ম্যাগনাম ওপাসের স্টলে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন কবি মঈনুদ্দীনের পুত্রবধূ ও সখিপুরের উপজেলা সমবায় অফিসার খোদেজা খানম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রকাশনা সংস্থা ম্যাগনাম ওপাসের সত্ত্বাধিকারী আনোয়ার ফরিদী ও আল-হামরা প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী খান মুহাম্মদ মুরসালীন।

মুরসালীন বলেন, পেশাদারিত্বের দিক থেকে বলতে গেলে খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন ছিলেন বাংলা শিশুসাহিত্যের অন্যতম দিকপাল। লেখকের এই বইটি প্রকাশ করতে পেরে আমরা গর্বিত। আবার আবেগের দিক থেকে বলতে গেলে, ব্যক্তিগত বিষয়গুলো চলে আসবে। যেমন বলতে হচ্ছে খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন-আমার দাদাজান।

তিনি বলেন, বইটি প্রথম প্রকাশ হয়েছিল ১৯৫৭ সালে। আমরা বিশেষ পরিবর্তন আনিনি। কারণ আমরা চেয়েছি এই বইটি সেই ১৯৫৭ সালের শিশুসাহিত্যের সাক্ষী হয়ে থাকুক। শুধু যুগের সাথে তাল মেলাতে চার রঙে নিয়ে এসেছি।

উল্লেখ্য, খান মুহম্মদ মঈনুদ্দিন, বাংলাদেশের একজন কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও সাংবাদিক। ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় ‘আলহামরা লাইব্রেরি’ নামেই তার প্রকাশনা সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখান থেকে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও প্রকাশ করতেন।

৫০ ও ৬০-এর দশকে শিশুতোষ সাহিত্য রচনা করে প্রচুর সুনাম অর্জন করেন মঈনুদ্দীন। কবির লেখা ‘কাঁনা বগির ছা’ কবিতাটি বাংলাদেশের শিশুদের নিকট অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং ‘যুগস্রষ্ঠা নজরুল’ নামক জীবনীটির জন্য তিনি বহুলভাবে সমাদৃত।

কবি মঈনুদ্দীনের রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে মুসলিম বীরাঙ্গনা (১৯৩৬), আমাদের নবী (১৯৪১), ডা. শফিকের মোটর বোট (১৯৪৯), খোলাফা-ই-রাশেদীন (১৯৫১), আরব্য রজনী (১৯৫৭), বাবা আদম (১৯৫৮), স্বপন দেখি (১৯৫৯), লাল মোরগ (১৯৬১), শাপলা ফুল (১৯৬২)। তিনি অনেক কবিতা, গল্প ও উপন্যাস লিখেন। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কবিতা- পালের নাও (১৯৫৬), হে মানুষ (১৯৫৮), আর্তনাদ (১৯৫৮); উপন্যাস- অনাথিনী (সহচর পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত (১৯২৬), নয়া সড়ক (১৯৬৭); ছোটগল্প- ঝুমকোলতা (১৯৫৬)।

১৯৬০ সালে ‘যুগস্রষ্ঠা নজরুল’ বইটির জন্য তিনি ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন। একই বছর কবি শিশু সাহিত্যে বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর তিনি সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৮১ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি কবি মঈনুদ্দীন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এই মহান কবির মৃত্যুর পর তার কনিষ্ঠ পুত্র খান মুহাম্মদ শিহাব তার অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যান। বর্তমানে কবি মঈনুদ্দীনের নাতি এবং কবি খান মুহাম্মদ শিহাবের ছোটছেলে খান মুহাম্মদ মুরসালীন আল-হামরা প্রকাশনী নামে নতুন আঙ্গিকে সৃজনশীল গ্রন্থ প্রকাশের কাজ করছেন। এছাড়া আল-হামরা লাইব্রেরীও এখনো নিয়মিত ভাবেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

পিএসএস

 

শিল্প ও সাহিত্য: আরও পড়ুন

আরও