এই উত্তম সময়টিতে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলুন
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০ | ২৪ আষাঢ় ১৪২৭

এই উত্তম সময়টিতে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলুন

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৩১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৯

এই উত্তম সময়টিতে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলুন

নামায আল্লাহর সঙ্গে বান্দার যোগাযোগ ও নিবিড়তম সম্পর্ক তৈরির মাধ্যম। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের মাধ্যমে আমরা পাঁচবার আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাত ও কথোপকথন করি। এছাড়াও আমরা দিন ও রাতের বিভিন্ন সময়ে আল্লাহর সঙ্গে একান্তে কথা বলতে, তাঁর কাছে নিজের মনের আর্তিগুলো মেলে ধরতে নফল নামাযে দাঁড়াতে পারি।

নফল নামাযগুলোর মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তাহাজ্জুদের নামায। যা ইশার পর থেকে পরবর্তী ফজর নামাযের সময় হওয়ার আগ পর্যন্ত পড়া যায়। তবে উত্তম সময় হলো রাতের শেষ তৃতীয়াংশ। মূলত এটি এমন এক সময়, যখন দুনিয়ার সকল ব্যস্ততা থেকে মুক্ত হয়ে মানুষ তার স্রষ্টার সামনে শান্ত মনে দাঁড়াতে পারে।

কুরআনে আল্লাহ তাঁর রাসূল (সা.) কে তাহাজ্জুদের নির্দেশ দিয়ে বলছেন,
وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ عَسَىٰ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا
অর্থ: রাত্রির কিছু অংশ কোরআন পাঠসহ জাগ্রত থাকুন। এটা আপনার জন্যে অতিরিক্ত। হয়তো আপনার পালনকর্তা আপনাকে প্রশংসিত এক স্থানে পৌঁছাবেন। (সূরা ইসরা, আয়াত: ৭৯)

যদিও রাসূল (সা.) কে বিশেষভাবে এই নির্দেশটি দেওয়া হয়েছিল, তথাপি সাধারণভাবে সকল মুসলমান এই নির্দেশের অর্ন্তভুক্ত রয়েছেন। মূলত তাহাজ্জুদ আদায়ের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি যেমন নিজের অন্তরের প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক উন্নতি অর্জন করতে পারে, অন্যদিকে সে আল্লাহর দয়া ও ক্ষমাও অর্জন করতে পারে।

কুরআনে আল্লাহ তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের বিবরণ দিয়ে বলেন,
وَعِبَادُ الرَّحْمَـٰنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا ﴿٦٣﴾ وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا ﴿٦٤﴾
অর্থ: “রহমান-এর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সাথে যখন মুর্খরা কথা বলতে থাকে, তখন তারা বলে, সালাম। এবং যারা রাত্রি যাপন করে পালনকর্তার উদ্দেশ্যে সেজদাবনত হয়ে ও দন্ডায়মান হয়ে।” (সূরা ফুরকান, আয়াত: ৬৩-৬৪)

তাহাজ্জুদের গুরুত্ব বর্ণনা করে প্রিয় নবী (সা.) থেকে অনেক হাদীস হয়েছে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন, যখন রাসূল (সা.) মদীনায় এলেন, তখন অনেক লোক তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করতে এলো। তাদের মধ্যে আমিও ছিলাম। আমি তাঁর চেহারায় লক্ষ্য করে নিশ্চিত হলাম, এটি কোন মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। তাঁর থেকে প্রথম আমি যে কথা শুনেছি তা হলো,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ، أَفْشُوا السَّلَامَ وَصِلُوا الْأَرْحَامَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصَلُّوا بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ، تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ
“হে লোকেরা, সালামের প্রচলন করো, লোকদের খাওয়াও, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করো এবং সকলে যখন রাতে ঘুমিয়ে পড়বে, তখন তুমি নামাযে দাঁড়াও, তুমি শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” –তিরমিযি, ইবনে মাযাহ, আহমাদ

তাহাজ্জুদের নামায রাতের যেকোনো সময় আদায় করা যায়। তবে রাতের শেষ অংশকে উত্তম সময় বলা হয়েছে।

তাহাজ্জুদ শুধু একা নয়, সঙ্গীকে সাথে করে আদায় করার প্রতিও বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন,
رَحِمَ اللَّهُ رَجُلا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ ، فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا الْمَاءَ ، رَحِمَ اللَّهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ وَصَلَّتْ وَأَيْقَظَتْ زَوْجَهَا ، فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِي وَجْهِهِ الْمَاءَ
“আল্লাহ সেই ব্যক্তির উপর রহম করুন যে রাতে উঠে নামায আদায় করে এবং তার স্ত্রীকেও জাগিয়ে দেয়। যদি সে (স্ত্রী) উঠতে না চায়, তবে সে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। তেমনি আল্লাহ সেই নারীর উপর রহম করুন যে রাতের নামায আদায়ের জন্য ওঠে এবং তার স্বামীকেও জাগিয়ে দেয়। যদি সে (স্বামী) উঠতে না চায়, তবে সে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়।” –আবু দাউদ

রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে এই বিশেষ সময়টিতে তার কাছে দাঁড়ানোর তাওফিক দান করুন। আমীন।

এমএফ/

আরও পড়ুন...

তাহাজ্জুদের দু’আ!
তাহাজ্জুদের নিয়তে ঘুমালেও সদকা!
দুআ কবুলের প্রতিশ্রুতি যে নামাযে
কেন নামায পড়া আমাদের একান্ত প্রয়োজন?
প্রথম কাতারে নামায : আল্লাহকে ভালবাসার উত্তম প্রতিযোগিতা
নামাযে বিভিন্ন কথা মনে হয়? আপনার জন্য চার পরামর্শ
নামাযে রাকাত নিয়ে সংশয়ে পড়লে যা করবেন
নামাযে অজু নিয়ে সন্দেহ হলে কি করবেন?
প্রস্রাবের পর পোশাকের পবিত্রতা নিয়ে সন্দেহ হলে যা করবেন 

সিজদা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

 

: আরও পড়ুন

আরও