ফজর ও মাগরিবে পাঠ করুন কালিমায়ে শাহাদাত!

ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫

ফজর ও মাগরিবে পাঠ করুন কালিমায়ে শাহাদাত!

শাইখ আতিক উল্লাহ ৮:২৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০১৮

print
ফজর ও মাগরিবে পাঠ করুন কালিমায়ে শাহাদাত!

ইসলামে কালিমায়ে শাহাদাতের গুরুত্ব অপরিসীম। কালিমায়ে শাহাদাত হল ইসলামে প্রবেশের দ্বার। কালিমায়ে শাহাদাত ছাড়া ইসলামে প্রবেশ করা যায় না। নবীজি সা. বিভিন্ন উপলক্ষ্যে কালিমায়ে শাহাদাত পড়তেন। ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন,

أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ مُعَاذًا رضي الله عنه إِلَى اليَمَنِ، فَقَالَ: ادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ، فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ قَدِ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ، فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ
রাসুলুল্লাহ সা. মু’আয বিন জাবাল রা. কে ইয়ামানে পাঠানোর সময় বললেন,
-ইয়ামানবাসীকে বলবে, তারা যেন সাক্ষ্য দেয়, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ (উপাস্য) নেই। আর আমি আল্লাহর রাসূল।
তারা যদি এ (শাহাদাতের) বিষয়ে আনুগত্য করে, তাদেরকে জানিয়ে দেবে, আল্লাহ তা’আলা তাদের সম্পর্দে যাকাত ফরয করেছেন। যা ধনীদের থেকে সংগ্রহ করে গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দেয়া হবে (বুখারী ১৩৯৫)।

কালিমায়ে শাহাদাহ পাঠ করার পর থেকেই একজন্য ব্যক্তির উপর, আল্লাহর পক্ষ থেকে, নানা দায়িত্ব বর্তাতে শুরু করে। এটার যেমন গুরুত্ব, সওয়াব প্রতিদানও তেমন অপরিমেয়। আবু যর রা. বলেছেন,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ قَالَ فِي دُبُرِ صَلَاةِ الفَجْرِ وَهُوَ ثَانٍ رِجْلَيْهِ قَبْلَ أَنْ يَتَكَلَّمَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ عَشْرَ مَرَّاتٍ، كُتِبَتْ لَهُ عَشْرُ حَسَنَاتٍ، وَمُحِيَ عَنْهُ عَشْرُ سَيِّئَاتٍ، وَرُفِعَ لَهُ عَشْرُ دَرَجَاتٍ، وَكَانَ يَوْمَهُ ذَلِكَ كُلَّهُ فِي حِرْزٍ مِنْ كُلِّ مَكْرُوهٍ، وَحُرِسَ مِنَ الشَّيْطَانِ، وَلَمْ يَنْبَغِ لِذَنْبٍ أَنْ يُدْرِكَهُ فِي ذَلِكَ اليَوْمِ إِلَّا الشِّرْكَ بِاللَّ
অর্থঃ আল্লাহর রাসূল সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের পর, হাঁটু মোড়া অবস্থাতেই, কারো সাথে কথা বলার আগে, “একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোনও উপাস্য নেই। তাঁর কোনও শরীক নেই। সর্বরাজত্ব তাঁরই। সমস্ত প্রশংসাও তাঁর। তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু দান করেন। আর তিনিই সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান” দশবার করে পড়বে, তার জন্যে দশটি হাসানাহ (পূন্য) লেখা হবে, তার দশটি গুনাহ মাফ করা হবে, তার দশটি মর্যাদা বুলন্দ করা হবে। পুরোটা দিন সে সমস্ত অপ্রীতিকর বিষয় থেকে সুরক্ষিত থাকবে। শয়তানের অনিষ্ট থেকে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হবে। সেদিন আল্লাহর সাথে শিরিকের গুনাহ ছাড়া, আর কোনও গুনাহ তা কাছে ঘেঁষতে পারবে না। (তিরমিযী-৩৪৭৪)
আরেক হাদীসে আবু আইয়ূব আনসারী রা. এর বরাতে অতিরিক্ত একথাও আছে, নবীজি সা. বলেছেন,
وَمَنْ قَالَهُنَّ إِذَا صَلَّى الْمَغْرِبَ دُبُرَ صَلَاتِهِ فَمِثْلُ ذَلِكَ حَتَّى يُصْبِحَ
যে ব্যক্তি (হুবহু) ওই বাক্যগুলো (একই পন্থায়) মাগরিবের পর পড়বে, সকাল পর্যন্ত অনুরূপ উপকার লাভ করবে (ইবনু হিব্বান ২০২৩)।

এমন এক দু’আ শিরক ছাড়া সব ধরনের গুনাহ থেকে বাঁচা যাবে। দু’আটা পড়ার অর্থ, আমি একটা নতুন দিনকে, একটা নতুন রাতকে পরিপূর্ণ তাওহীদের উপর থেকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছি। তাওহীদের উপর থাকা সবচেয়ে বড় ইবাদত। তাওহীদ না থাকলে, কোনও ইবাদতই থাকবে না। আর বড় কথা, আমি ‘কালিমাটা’ পড়ার মাধ্যমে, শয়তানের চক্রান্ত থেকে বেঁচে যাবো। চব্বিশ ঘণ্টার নানা বিপদ থেকে আসমানী সুরক্ষা লাভ করব। এই কালিমা আমার জন্যে ‘বডিগার্ড’ হয়ে যাবে। শুধু কি ‘বডি’? আমলেরও ‘গার্ড’ হয়ে যাবে না? আমলনামাকে গুনাহমুক্ত রাখবে, এর চেয়ে বড় ‘গার্ড’ আর কি হতে পারে?

-এফএস

 
.




আলোচিত সংবাদ