শুটিং হাউসগুলোর নতুন নীতিতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

শুটিং হাউসগুলোর নতুন নীতিতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া

আহমেদ জামান শিমুল ৫:০০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০১৬

print
শুটিং হাউসগুলোর নতুন নীতিতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া

রাজধানীর উত্তরাতে রয়েছে ২০টির মত শুটিং হাউস। যার ১৫টির মালিকদের নিয়ে গঠিত ‘শুটিং হাউস এসোসিয়েশন’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বেশ কিছু নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাত ১১টার মধ্যে শুটিং বন্ধ করার নির্দেশনা। এ নিয়ে টেলিভিশন নাটক সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।


শুটিং হাউস এসোসিয়েশনের এক চিঠিতে বলা হয়, রাত এগারোটার পর বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকবে। কোনভাবেই অনুরোধ করা যাবে না। হাউসগুলোয় আগত লোকজনের নাম খাতায় লিপিবদ্ধ করতে হবে। সশরীরে এসে বুকিং করতে হবে। নতুন এ সিদ্ধান্ত ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হচ্ছে। পাশাপাশি এক তরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা খানিকটা উষ্মা প্রকাশ করেন।

কেন এ সব সিদ্ধান্ত? এ প্রশ্নের উত্তরে সংগঠনটির সভাপতি খলিলুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এ সিদ্ধান্তগুলো আমরা আগেই নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এবার দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক ও আশেপাশের বাড়িওয়ালাদের অনুরোধে সিদ্ধান্তগুলো নিতে হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিটি হাউসে দেখা-শোনার জন্য ৩-৪ জন কর্মচারী থাকে। এখন রাতের তিনটায় শুটিং শেষ হলে আবার সকাল সাতটায় তাদের ডিউটিতে আসতে হয়। কিন্তু বেশি রাত হয়ে যাওয়ায় তারা হাউস পরিষ্কার করে রাখতে পারে না। যার কারণে ইউনিটগুলো নানান অভিযোগ করে। এছাড়া দেরিতে শুটিং শেষ হওয়ায় অনেকেই ছিনতাইয়ের শিকার হন। আর আবাসিক এলাকা হওয়ায় বাণিজ্যিক ব্যবহারেরও কিছু নীতিমালা মানতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে নবনির্বাচিত ‘ডিরেক্টরস গিল্ড' সভাপতি গাজী রাকায়েত বলেন, ‘সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে শুটিং করার সিদ্ধান্ত তো আমরা শিল্পী, কুশলীদের নিয়ে গঠিত ফোরামে নিয়েছি। কিন্তু হুট করে তো উনারা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সবার সাথে বসেই তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। তবে এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।‘

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এসএ হক অলিক বলেন, ‘আমরা তাদের সাথে আগামীকাল (রবিবার) মিটিং করব। সিদ্ধান্ত তারা নিতেই পারেন। কিন্তু আমাদেরকে জানিয়ে তো নেবেন। তবে এটা হলে পরিচালক, শিল্পী সকলেই ভাল কাজ উপহার দিতে পারবেন।’

পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা না করলেও বলেন, ‘এখন তাদের এ সিদ্ধান্ত বিশেষ ক্ষেত্রে বিবেচনার সুযোগ রাখা উচিত। কারণ ঈদের সময়ে আমাদের ৩ দিনের কাজ ২ দিনে নামাতে হয়। তখন সারারাত কাজ করতে হয়। চাইলেও একদিন বেশি করা যায় না, কারণ শিল্পীদের শিডিউল থাকে না।’

টিভি ও চলচ্চিত্রের নিয়মিত শিল্পী মৌসুমী হামিদ বেশ খুশি এ সিদ্ধান্তে। বলছিলেন, ‘দেখেন রাতে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে পারলে সকালে সঠিক সময়ে সেটে আসতে পারব। এছাড়া টানা কাজ করলে কাজের আউটপুট ভাল আসে না।’

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে এ সিদ্ধান্তে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

এজেডএস/ডব্লিউএএস

 
.

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ





আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad