খানসামায় বাণিজ্যিকভাবে সুপারি চাষ

ঢাকা, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৪

খানসামায় বাণিজ্যিকভাবে সুপারি চাষ

দিনাজপুর প্রতিনিধি ৮:১৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০১৮

print
খানসামায় বাণিজ্যিকভাবে সুপারি চাষ

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় এখন বাণিজ্যিকভাবে হচ্ছে সুপারি চাষ। লাভজনক হওয়ায় ধীরে ধীরে ঘটছে সুপারি চাষের প্রসার। পতিত জমি, বসতবাড়ির আশপাশ এবং জমির আইলে সুপারি আবাদ করে কৃষকরা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে করছে বাড়তি আয়।

দিনাজপুরের খানাসামা উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে ঘুরে দেখা যায় ব্যাপক সুপারির চাষ। এর মধ্যে খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ি ইউনিয়নের জয়গঞ্জ, বাসুলী এবং ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া গ্রামসহ বেশ কিছু এলাকায় বাণিজ্যিক সুপারি বাগান রয়েছে।

পরিবর্তন ডটকমের সাথে কথা হয় সুপারি চাষী জয়গঞ্জ গ্রামের মুকুল সরকার, অখিল দেবনাথ, সম্ভুনাথ ভট্টাচার্য, বাসুলী গ্রামের আনোয়ার হোসেন রানা এবং টংগুয়া গ্রামের মাহমুদ শরাফী’র।

মুকুল সরকার জানান, তার সুপারির বাগানে গাছের বয়স প্রায় ২৫ বছর। কিছু গাছসহ তিনি জমিটা ক্রয় করেছেন। আগের গাছ ছিল প্রায় ২০০টি মত। পরে আরও গাছ লাগিয়ে এখন সব মিলিয়ে তার ৩৫০টি সুপারির গাছ। গত মৌসুমে প্রায় এক লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করেছিলেন তিনি। এবার আবহাওয়ার কারণে ফলন কম হয়েছে। এখন পর্যন্ত সুপারি পরিপূর্ণ হয়নি। বাজার থাকলে এবারও ভালো দাম পাবার আশা রাখি।

বাসুলী গ্রামের পান সুপারি বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন রানা বলেন, তার বাড়ির আশপাশসহ, পুকুরপাড় এবং ক্ষেতের আইল মিলে প্রায় ১৫ শতক জমিতে ২০০টি গাছ আছে। গাছগুলোর বয়স প্রায় ২০ বছর। গত মৌসুমে প্রায় ৪৫ হাজার টাকার সুপারি বিক্রি করেন তিনি।

জয়গঞ্জের পুরাতন সুপারি বাগান মালিক ষাটোর্ধ সম্ভুনাথ বলেন, তার বড় ভাই বিমলেন্দু ভট্টাচার্য গত ৫৫ বছর পূর্বে বসতবাড়ির এই ২০ শতক জমিতে প্রায় ১ হাজার গাছ লাগিয়েছিল। প্রতিবছর ঝড়ে ভেঙে কমে এখন প্রায় সাড়ে ৫শর মতো গাছ আছে। পুরনো গাছগুলো এখন ফলন কম হচ্ছে। এখন যা ফল হচ্ছে, এগুলো বাড়তি। তবুও গত মৌসুমে প্রায় ১৫ হাজার টাকার সুপারি বিক্রি করেন তিনি।

অপরদিকে নতুন সুপারি চাষী টংগুয়া গ্রামের মাহমুদ শরাফী বলেন, বাড়ির দক্ষিণে পড়ে থাকা ৫০ শতক জমিতে ৩৫০টি, ক্ষেতের আইলে ১০০টি এবং বাড়ির চারপাশের খোলা জায়গাতে কিছু সুপারি গাছ লাগান। গাছগুলোর বয়স মাত্র ৮ বছর। রোপনের চার বছর পর থেকে ফল আসা শুরু হয়েছে। নতুন অবস্থায় গাছগুলোতে প্রায় ৭০০টির মত সুপারি ধরেছে। গত বছর প্রায় ৪৫ হাজার টাকার সুপারি বিক্রি করেন তিনি। এ বছর নতুন কিছু গাছেও সুপারি ধরেছে। সব মিলে চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০ হাজার টাকার সুপারি হতে পারে।

সুপারির ওষুধি গুণাগুণ সম্পর্কে স্থানীয় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক বিনয় কৃষ্ণ রায় জানান, কাঁচা সুপারির রস খেলে ক্রিমি, রক্ত আমাশা, অজীর্ণ রোগ দূর হয়। সুপারি ভেজে গুড়ো করে দাঁত মাজলে ব্যথা এবং পায়রিয়া রোগ সেরে যায়। তবে কাঁচা সুপারি বেশি পরিমাণে খেলে মুখের ক্যান্সার হতে পারে। কারণ কাঁচা সুপারিতে অ্যালকালয়েড থাকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন জানান, সুপারি হলো পরিবেশ বান্ধব গাছ। বাড়ির আশপাশের পতিত জমি এবং পুকুরপাড়ে সুপারি গাছ লাগিয়ে আয় করা সম্ভব। এতে পতিত জমির সর্বত্তোম ব্যবহার হয়, অর্থও আসে। আর সুপারি গাছের সাথে পানসহ লতা জাতীয় শাক-সবজি চাষ করা যায়।

এটি/এসএফ

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad