বোরো মৌসুম শুরু হলেও পুনর্বাসনের টাকা পাচ্ছে না কৃষকরা

ঢাকা, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৪

বোরো মৌসুম শুরু হলেও পুনর্বাসনের টাকা পাচ্ছে না কৃষকরা

বাবরুল হাসান বাবলু, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) ৭:৪২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০১৮

print
বোরো মৌসুম শুরু হলেও পুনর্বাসনের টাকা পাচ্ছে না কৃষকরা

তাহিরপুরে বোরো ধান রোপন মৌসুম শুরু হলেও বিশেষ কৃষি পুনর্বাসনের টাকা পাচ্ছে না প্রায় ৩০ হাজার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। সোনালী ও কৃষি ব্যাংকের স্থানীয় তাহিরপুর শাখার কর্মকর্তাদের সদিচ্ছার অভাবেই সরকারি পুনর্বাসনেরে এ টাকা পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ কৃষকদের।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুছ ছালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমি কৃষকদের প্রয়োজনীয় সকল কাগজ পত্র ঠিকঠাক করে মাস খানেক পূর্বেই কৃষি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক এর তাহিরপুর সদর ও বাদাঘাট শাখায় তালিকা পাঠিয়েছি। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেছিলেন জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহেই কৃষকদের টাকা প্রদান করবেন। কিন্তু এখনো তা না দেয়ায় কৃষকরা প্রায় অফিসে এসে মৌখিক অভিযোগ করছেন।

জানা যায়, গত বছর অকাল বন্যায় বাধ ভেঙে তাহিরপুর উপজেলার সবক’টি বোরো ফসলি হাওর পানিতে তলিয়ে যায়। পরবর্তীতে সরকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য চলতি বছর বীজ, সার ও নগদ অর্থ প্রদানের সিদ্বান্ত গ্রহন করে। এরই ধারাবাহিকতায় তাহিরপুর উপজেলায় ২৯ হাজার ৯শ’ ৪৮ কৃষককে জন প্রতি ৫ কেজি বীজ ধান, ৩০ কেজি সার ও নগদ ১ হাজার করে টাকা প্রদানের সিদ্বান্ত নেয় সরকার।

মাস খানেক পূর্বে বীজতলা তৈরী করার সময় উপজেলার ৭ ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত তালিকাভুক্ত কৃষকদের বীজ ধান ও সার সরবরাহ করে তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস।

এরই সাথে সাথে কৃষকদের নগদ অর্থ প্রদানের জন্য সকল প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র তৈরী করে কৃষি অফিস সোনালী ও কৃষি ব্যাংক তাহিপুর শাখায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণ করে।

কাগজ পত্র প্রেরণের পর মাস পার হয়ে গেলেও এ পর্যন্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের টাকা প্রদান করেনি ব্যাংক দুটি। এদিকে  শুরু হয়েছে হাওরে বোরো ধান রোপনের মৌসুম। কৃষকরা পুনর্বাসনের টাকা পেতে প্রায়ই উপজেলা কৃষি অফিসে কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। অনেক কৃষক অভিযোগ জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদকর্মীদেরও।

উজান তাহিরপুর গ্রামের শনির হাওরের কৃষক নাজমুল হুদা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এমনিতে কৃষকরা ধার দেনা করে জমি রোপন করছেন, যথাসময়ে পুনর্বাসনের টাকাটা পেলে কৃষকদের কিছুটা সহায় হত।

তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বোরো ধান রোপন মৌসুম শুরু হয়েছে। কৃষকদের টাকাটা তাদের হাতে দ্রুত তুলে দিলে অনেক উপকার হত। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তা দেই দিচ্ছি করে শুধু সময় নিচ্ছেন।

শ্রীপুর দক্ষিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বোরো রোপন মৌসুম চলছে টাকার জন্য কৃষকরা প্রতিদিন আমাদের কাছে ভীর করছেন। যথা সময়ে টাকাটা পেলে কৃষকদের অনেক উপকার হত।

এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংক তাহিরপুর শাখার ব্যবস্থাপক পুলক রঞ্জন চক্রবর্ত্তী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ২৫ জানুয়ারি  থেকে কৃষকদের পুনর্বাসন কার্যক্রম চলবে।

বিএইচবি/এএফ/

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad