পাবনায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার যন্ত্রে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের

ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

পাবনায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার যন্ত্রে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের

পাবনা প্রতিনিধি ৬:৫১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৭

print
 পাবনায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার যন্ত্রে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের

পাবনায় কৃষকের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কম্বাইন্ড হারভেস্টার যন্ত্র। শ্রমিক সংকট ও মজুরিবৃদ্ধিতে ধানের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার বিপরীতে এ যন্ত্রকে এক সহজ সমাধান হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকটা ট্রাক্টরের মত দেখতে এ যন্ত্র দিয়ে একই সাথে ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তায় ভরা যায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে।

.

 

সোমবার পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের খয়েরবাড়িয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায়, কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে ফসল কর্তন শীর্ষক এক মাঠ দিবসে বক্তারা এসব তথ্য জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ী, পাবনার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ বিভূতিভূষণ সরকারের সভাপতিত্বে মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং এর পরিচালক আব্দুল হান্নান।

মাঠ দিবসের আলোচনায় উপকারভোগী কৃষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ১৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। বিগত দিনে চাষাবাদ করে তেমন কোনো উন্নতি করতে পারেননি। মৌসুমের সময় শ্রমিক সঙ্কটসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে কৃষি কাজ থেকে সরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এ অবস্থায় গত বছর জানতে পারেন কম্বাইন হারভেস্টার সম্পর্কে। মেশিনটি কেনার পরই শ্রমিক ও মাড়াই সমস্যাসহ একে একে অন্যান্য সমস্যাও দূর হতে থাকে তার।

গত মৌসুমে তিনি নিজের জমি ছাড়াও অন্যান্য কৃষকের প্রায় ২০০ বিঘা জমির ধান কাটেন কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে। এ জন্য বিঘা প্রতি তার খরচ হয়েছে ২০০ টাকা; আর আয় হয়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা করে। এতে খরচ বাদ দিয়ে গত মৌসুমেই তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকা লাভ করেছেন। সে ধারাবাহিকতায় এ বছরও যন্ত্রটি দিয়ে ধান মাড়াই করছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়,প্রতিটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার যন্ত্রের দাম প্রায় ৬ লক্ষ টাকা। চলতি বছর ‘খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি দ্বিতীয় পর্যায়’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে সারা দেশে মাত্র ১২৫টি মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টারের জন্য ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিনিয়ত কৃষকদের মধ্যে যন্ত্রটির চাহিদা বাড়ছে। ফলে এ ক্ষেত্রে ভর্তুকী বরাদ্দ বৃদ্ধির পরামর্শ কৃষি বিশেষজ্ঞদের।

কৃষক ও ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিনি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ ৬০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ কমানো যায়। যন্ত্রটি ব্যবহার করলে সময় বাঁচায় ৭০-৮২ শতাংশ এবং ৭৫ শতাংশ কম শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে এক একর জমির ধান বা গম কাটতে খরচ হয় প্রায় ৬ হাজার টাকা। সেখানে মিনি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার ব্যবহারে লাগে মাত্র ৪০০ টাকা। এটি অল্প কাদার মধ্যেও ব্যবহার করা যায়। একই সঙ্গে এ যন্ত্র দিয়ে ফসল কাটার পর খড় আস্ত থাকে।

মাঠ দিবসে উপস্থিত কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আগ্রহকে প্রশংসা করে প্রধান অতিথি আব্দুল হান্নান বলেন, দেশের কৃষিখাতে শ্রমিক সঙ্কট মিটিয়ে নিজেদের সচ্ছ্বলতার মাধ্যম হিসেবে উন্নত প্রযুক্তির কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারের দিকে ঝুঁকছেন মাঝারি ও বড় পর্যায়ের কৃষকরা। যন্ত্রটির ব্যবহার বাড়ানো গেলে ফসলের উৎপাদনশীলতা যেমন বাড়বে, তেমনি শ্রমিক সঙ্কট কাঠিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। এ প্রয়োজনীয়তার দিকটি মাথায় রেখে কৃষকদের মাঝে যন্ত্রটির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

মাঠ দিবসে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ধান, গম ও পাটবীজ উৎপাদন সংরক্ষণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. সারওয়ার জাহান, মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুল হক প্রমুখ।

আরজে/এএস

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad