আগাম জাতের আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১ পৌষ ১৪২৪

আগাম জাতের আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক

নওগাঁ প্রতিনিধি ৮:০৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০১৭

print
আগাম জাতের আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক

নওগাঁয় আগাম জাতের আলু চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকেরা। আগাম জাতের আলু চাষে লাভ হওয়ায় কৃষকরা কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে। কেউ জমি তৈরি করছেন, কেউবা শ্রমিক নিয়ে ক্ষেতে আলু লাগাচ্ছেন। প্রতি বছর আগাম জাতের আলু চাষ করে লাভবান হওয়ায় গত বছরের তুলনায় বেশি জমিতে আলু চাষ করছে জেলার কৃষকরা। কিছুদিন আগে যে জমির ধান কেটে ঘরে তুলেছে প্রান্তিক কৃষক সেই জমিতেই এখন আগাম আলু চাষে ব্যস্ত তারা।

.

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রত্যেকটি কৃষক আলু চাষ করে অধিক মুনাফা লাভ করতে পারবে। গত বছরের তুলনায় জেলার সকল ইউনিয়নের জমিতে বেশি পরিমাণ আগাম আলু উৎপাদন হবে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ। এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় এবং আলুর বীজ ভালো পাওয়ায় খুশি মনে আলু চাষে ঝুঁকে পড়েছে কৃষকরা।

আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা গ্রামের কৃষক আজাদ সরদার জানান, এবার ১২/১৩ বিঘা জমিতে আলু চাষ করবেন। হিমাগারে বীজ রেখে বীজের মান ভালো পেয়েছি। আমার বীজের কোনো সমস্যা নেই। প্রতিদিন ১০/১২ জন কৃষক আলুর জমি তৈরির কাজ করছেন। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে গত বছরের তুলনায় এবার বেশি লাভের আশা করছি।

পত্নীতলা উপজেলার ঘোষনগর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম জানান, গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কবলে পড়ে প্রায় দুই লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এবার আশা করছি কোনো ধরনের সমস্যা না হলে আলুতে খরচের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হবে।



আলুর বীজের ক্ষতি সম্পর্কে উপজেলার দক্ষিরপাড়া গ্রামের মনজুর এলাহীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি হিমাগারে বীজের জন্য আলু রেখেছিলাম। আল্লাহর রহমতে আমার বীজের কোনো পচন সমস্যা দেখা দেয়নি এবং আলুর বীজ ভালো অবস্থায় পেয়েছি।

তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের অধিক পরিমাণ বীজ হিমাগারে রাখতে হয়। কিন্তু উপজেলায় কোনো হিমাগার না থাকায় আমাদের প্রতি বছর ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই উপজেলায় ১টি হিমাগার হলে আলু সংরক্ষণে কৃষকরা আলু চাষ করে স্বস্তি পেত।

অপরদিকে আলু চাষের জন্য উপজেলার কৃষি বিভাগ থেকে যথেষ্ট পরিমাণ সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য প্রতিদিন উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে উপজেলা সহকারী কর্মকর্তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রত্যেকটি কৃষক আলু চাষ করে অধিক মুনাফা লাভ করতে পারবে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদেরকে যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো প্রকার ক্ষতি না হলে জেলায় আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু তাই নয় আলু চাষের জমিগুলো উর্বরতা বেশি থাকায় কৃষকরা ইরি-বোরো চাষেও এর সুফল পাবে। জেলার আলু চাষিরা যেভাবে আলু চাষে ঝুঁকে পড়েছে তাতে নওগাঁ জেলার মানুষের আলুর চাহিদা পূরণ করেও দেশের বিভিন্ন জেলায় কয়েক হাজার টন আলু রফতানি করতে পারবে।

বিএআর/এসএফ

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad