আমন ধান ঘরে তোলার অপেক্ষায় চাষিরা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

আমন ধান ঘরে তোলার অপেক্ষায় চাষিরা

রংপুর প্রতিনিধি ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৭

print
আমন ধান ঘরে তোলার অপেক্ষায় চাষিরা

রংপুরের বিস্তীর্ণ ক্ষেতজুড়ে এখন স্বল্পমেয়াদি আমন ধানের ম-ম সুবাস বইছে। সপ্তাহ খানিক পরেই মঙ্গা তাড়ানো আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হবে। নতুন এ ধান উঠবে কৃষকের গোলায়। সোনালি ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে চাষিরা এখন বিভোর। তাই কৃষকের চোখে-মুখে ফুটে উঠছে হাসির ঝিলিক।

.

রংপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার রংপুরে ১ লাখ ৬৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন অবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে তার চেয়েও বেশি জমিতে। আর এ থেকে উৎপাদন ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ধান। এরমধ্যে রংপুরের সবচেয়ে অভাবি এলাকা গঙ্গাচড়া উপজেলায় এবার ২০ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। যার মধ্যে স্বল্প মেয়াদি ও আগাম  জাতের ধান চাষ করা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে।

সরেজমিনে কাউনিয়ার কুর্শা ইউনিয়নের মীরবাগ জুম্মাটারি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সবুজ আমন ক্ষেতের মাঝে মাঝে দোল খাচ্ছে পাকা ধান।

ওই এলাকার কৃষক রমজান আলী জানান, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তার ক্ষেতের ধান কাটা যাবে।

গজঘণ্টা এলাকার কৃষক জব্বার মিয়া জানান, সাধারণ ধানের চেয়ে এক মাস আগে এ ধান ঘরে তোলা যায়।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষ এ ধানকে মঙ্গা তাড়ানোর ধান বলে থাকেন। কারণ আশ্বিন-কার্ত্তিক মাসে এখানে কাজের অভাব দেখা দেয়। বেকার হয়ে পড়েন লোকজন। আর এ সময় ধান পাকার ফলে একদিকে যেমন মজুররাও কাজ পাচ্ছে অন্যদিকে আমাদের অভাব পূরণ হয়। ধানের খড় গরুর খাবারও হয়।

আশ্বিন-কার্ত্তিক মাসে গ্রামাঞ্চলে কৃষকের ঘরে খাবার ও কৃষি শ্রমিকদের হাতে কাজ থাকে না। কাজ না থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষ খেয়ে না খেয়ে দিন যাপন করে। এ সময় অভাবি মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় কাজের সন্ধানে ছুটে যায়। কেউ বা আগাম শ্রম বিক্রিসহ বাড়ির হাঁস-মুরগি, গরু ছাগল, গাছ-পালা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এসব কথা চিন্তা করেই বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট রংপুরের আশ্বিন-কার্তিক মাসে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে স্বল্পমেয়াদি ব্রি-৩৩ ও বিনা-৭ জাতের ধান উদ্ভাবন করে তা কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করে।

এই ধান রোপণের মাত্র ১০০-১১০ দিনের মধ্যেই পেকে যায়। যেখানে অন্যান্য জাতের ধান পাকতে সময় লাগে ১৪০-১৫০ দিন। অল্প সময়ে পাকে বলেই গ্রামাঞ্চলের চাষীরা এর নাম দিয়েছে মঙ্গা তাড়ানো ধান।

উপজেলার নাজিরদহ গ্রামের কৃষক আলী হোসেন জানান, স্বল্প মেয়াদি আগাম ধান কাটার পর ওই জমিতে আগাম আলু, ভুট্টা চাষবাদ করা যাবে। এতে মঙ্গা থেকে বাচা যাবে। তেমনি আগাম আলু করে লাভবান হতে পারব। তাই বর্তমানে কৃষকরা এসব ধান চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছে।

বিশ্বনাথ গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলী চলতি আমন মৌসুমে সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে আগাম আমন ধান রোপণ করেছেন। তিনি জানান, ১০-১২ দিনের মধ্যেই ধান কাটা যাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক স.ম. আশরাফ আলী জানান, জেলায় যে পরিমাণ আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। তার মধ্যে ৪ থেকে ৫ ভাগ আগাম জাতের। আগাম জাতের ধান সপ্তাহ খানিকের মধ্যে কাটা মাড়াই শুরু হবে।

তিনি বলেন, কৃষকরা এখন অল্প খরচে কম সময়ে বেশি লাভবান হওয়া যায় এমন ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

এসভি/বিএইচ/

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad