মাল্টা চাষে সাড়া ফেলেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষক বেলাল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

মাল্টা চাষে সাড়া ফেলেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষক বেলাল

বদরুল ইসলাম বিপ্লব, ঠাকুরগাঁও ৬:৪৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০১৭

print
মাল্টা চাষে সাড়া ফেলেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষক বেলাল

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে বেলাল হোসেন মাস্টার মাল্টা চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। তার সফলতা দেখে স্থানীয় অনেক বেকার যুবক মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

.

জেলার হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের কাঁঠালডাঙ্গী গ্রামের বেলাল হোসেন পেশায় একজন স্কুলশিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সৌখিনতার বসে মাল্টা চাষ শুরু করেন।

বেলাল হোসেন জানান, ২০১৫ সালে কৃষি বিভাগের পরামর্শে বাড়ির পেছনে পরিত্যক্ত ২৫ শতক জমিতে বারি-১ জাতের মাল্টার ৭৩টি চারা রোপণ করেন তিনি। এক বছরের মাথায় একটি গাছে ফল আসে। ওই ফল খেতে মিষ্টি, সুস্বাদু ও সুগন্ধ যুক্ত হওয়ায় তিনি পরের বছর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আরো ২ দুই একর জমিতে মাল্টার বাগান করেন।

তিনি জানান, প্রথমবার রোপণ করা ৭৩টি গাছের মধ্যে এ বছর ১৫ থেকে ২০টি গাছে আশানুরুপ ফল ধরেছে। কোনো গাছে ৭০টি, কোনো গাছে ৮০টি এবং কোনো গাছে ১২০টি পর্যন্ত মাল্টা ধরেছে।

বেলাল হোসেন জানান, এসবের মধ্যে ২০০ ফল তিনি ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। অবশিষ্ট ফল আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের মাঝে বিতরণ করেন।

তার স্ত্রী সাবিনা জেসমিন রিনা জানান, মাস্টার যখন স্কুলে থাকেন তখন তিনি বাগান দেখাশুনা ও পরিচর্যা করেন।

বেলালের সফলতা দেখে জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, আনোয়ার হোসেন, কাঠালডাঙ্গী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলামসহ অনেকে মাল্টা চাষে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন।

বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের বড় ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন মাল্টা চাষী বেলাল হোসেনের বাগান পরিদর্শন করেন। এ সময় বেলাল হোসেন তাকে বেশকিছু মাল্টা উপহার দেন।

এ ব্যাপারে হরিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নইমুল হুদা সরকার  জানান, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার মাটি অম্লীয় বেলে দো’আশ। এই জাতীয় মাটি মাল্টা ও কমলা চাষের উপযোগী।

তিনি জানান, সাইটাস ডেভলাপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় হরিপুর উপজেলায় মাল্টা চাষ শুরু হয়। প্রথম বছর ৮টি মাল্টার ব্লক প্রদশর্নী ও ২৮টি বসত বাড়িতে প্রদশর্নী শুরু করা হয়। এখন পর্যন্ত হরিপুর উপজেলায় ৬৫টি ব্লক প্রদশর্নী ও ৩৪৯টি বসত বাড়িতে মাল্টা প্রদশর্নী স্থাপন করা হয়েছে। এবছর থেকে কয়েকটি বাগানে ফল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এসব মাল্টা খেতে খুব সুস্বাদু।

এই কৃষি কর্মকর্তা জানান, বেলাল মাল্টারের বাগান দেখে অনেকে মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। মাল্টার বাজার মূল্য ঠিক থাকলে এখানে মাল্টা জাতের ফল বাগান দিন দিন বৃদ্ধি পাবে।

বিআইবি/এসবি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad