স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে ১৫ হাজার হেক্টর কৃষি জমি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে ১৫ হাজার হেক্টর কৃষি জমি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ৭:০৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৭

print
স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে ১৫ হাজার হেক্টর কৃষি জমি

সাতক্ষীরায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। অপরিকল্পিতভাবে মৎস্য ঘের, বিলের অভ্যন্তরীণ খাল খনন না করা এবং পানি নিষ্কাশনের স্লুইস গেইট বন্ধ রাখার কারণেই আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, জেলার পাঁচটি উপজেলার ১৫ হাজার হেক্টর আবাদি জমি এখন স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা উপজেলাতে ৬ হাজার ১৫ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৩৬০ হেক্টর, তালায় ৭ হাজার ৬৫ হেক্টর, আশাশুনিতে ৪৫০ হেক্টর এবং শ্যামনগর উপজেলাতে ১১৫ হেক্টর। এসব জমিতে বারো মাসই বিভিন্ন প্রকার ফসল উৎপাদন করতো কৃষক।

সাতক্ষীরা সদরের রামচন্দ্রপুরের কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, বিলে দীর্ঘ ৪০ বছরের অধিক সময় রোপা আমন, আউশ ও বোরো ধানসহ বিভিন্ন প্রকার ফসল উৎপাদন করে আসছি। ১০০ বিঘার উপরে আবাদি জমি রয়েছে এই বিলে আমার। গত ৩-৪ বছর যাবত জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে পুরো বিল। বোরো মৌসুমে সামান্য কিছু জমি চাষ করা গেলেও বছরের বাকি সময় জমিতে কোনো প্রকার ফসল উৎপাদন করতে পারছি না।

তিনি বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য বিলের ভেতর দিয়ে যেসব খাল রয়েছে তা খনন না করা ও ফসলি জমিতে বেড়িবাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করার কারণেই এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

বছর তিনেক আগেও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর বিলে কৃষকরা ধান, পাট ও সবজিসহ নানা প্রকার ফসল ফলাতো। আজ সেখানে কোমর সমান পানি। স্থায়ী জলাবদ্ধতা গ্রাস করে ফেলেছে এই বিলের কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি। একই অবস্থা পার্শ্ববর্তী ডাইয়ের বিলেও। এই বৃহৎ বিলে ফসল উৎপাদন করার মত এক শতক জমিও শুষ্ক পাওয়া যাবে না এখন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে ফসলি জমি কমে যাচ্ছে। জেলার আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে অপরিকল্পিতভাবে মৎস্য ঘের করা।

তিনি আরো বলেন, বিলের পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে যত্রতত্রভাবে মাছের ঘের করার ফলেই ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া বিল সংলগ্ন অধিকাংশ নদীর স্লুইস গেইট বন্ধ করে দেওয়ার কারণেও জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।

আইকে/জেআই

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad