ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ সবজি চাষীরা

ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৮ আশ্বিন ১৪২৪

ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ সবজি চাষীরা

বাগেরহাট প্রতিনিধি ৯:১৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৭

print
ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ সবজি চাষীরা

বাগেরহাটে এবার সবজির বাম্পার ফলন হলেও বাজার মূল্যে হতাশ হয়ে পড়েছে। পাচ্ছে না তারা সবজির ন্যায্য মূল্য। এতে একদিকে যেমন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, অন্যদিকে ঋণের বোঝা আরও ভারী হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, সদর উপজেলার চুলকাঠি, পোলেরহাট, সিএন্ডবি বাজার, শ্রীঘাট ও উৎকুল বাজার এলাকার কাঁচামালের (সবজি) বড় মোকাম হিসাবে পরিচিত। গত কয়েকদিন ধরে কাচা মালের (সবজি) মন্দা বাজার যাওয়ায় চাষীরা হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এতে করে তারা সবজি চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন।

সুগন্ধি গ্রামের মুনছুর ঢালী জানান, অন্যের জমি বর্গা নিয়ে শোষা, করলা ও চাল কুমড়ার চাষ করেন। ভাল ফলনের আশায় অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে কীটনাশক, বাশ, নেট ও সার ব্যবহার করেন। ফলনের প্রথম দিকে আশানুরূপ মূল্য পেলেও মাত্র কয়েক দিনের মাথায় সবজির মূল্য কমে যায়। মাত্র কয়েকদিন আগে ২৫-৩০ টাকা দামে শোষা, ১৭/১৮ টাকা দামে চাল কুমড়া ও ৩০/৩২ টাকা দামে করল্লা বিক্রি করলেও এখন শোষার বাজার মূল্য ১০ টাকা, চাল কুমড়ার বাজার মূল্য ৭/৮ টাকা, করল্লা ১২ টাকা।

সবজির বাজার মূল্য এমন থাকলে তার প্রায় অর্ধ লাখ টাকা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়াও সবজি চাষী ক্ষুদ্র চাকশ্রী গ্রামের ফারুক শেখ, সুনগর গ্রামের দুলাল শেখ, সুগন্ধি গ্রামের হানিফ ঢালী ও মারুফ ঢালী, রণভুমি গ্রামের শফিুল ইসলাম, উৎকুল গ্রামের ইলিয়াজ একই কথা বলেন।

সিএন্ডবি বাজারে গিয়ে কাচা মালের একই ধরনের বাজার মূল্য দেখা যায়। বাজারে কথা হয় সবজি চাষী আলম শেখ, আকবর শেখ ও ডাবলু শেখের সাথে। তারা জানান, লোক দিয়ে সবজি কাটিয়ে ভ্যান খরচ দিয়ে বাজারে আনায় অনেক খরচ হয়ে যায়। তারপর যদি সবজির মূল্য ভাল থাকতো তাহলে তারা সবজি চাষে উৎসাহিত হতো।

তারা আরো বলেন, এলাকার অধিকাংশ কৃষক দরিদ্র। তারা অনেকেই অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করে। আবার কেহ জমি লিজ নিয়ে সবজি চাষ করে। এর উপর আবার টাকা লোন নিয়ে সার, কীটনাশক ক্রয় করেছে অনেকে। বাজার মূল্য মন্দা হওয়ায় চাষীরা হতাশ।

সবজি কিনতে আসা ঢাকার কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী শেখ জাকির হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, তিনি মাসের ৩০ দিনই এ এলাকার বিভিন্ন বাজার থেকে কাঁচামাল কিনে ঢাকায় পাঠান। গত বৃহস্পতিবার তার ১১টি ট্রাকে ১৬০ মন কাচামাল পাঠানো হয়েছে। ঢাকার বাজার মন্দা হবার কারণে স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। তবে সদ্য ঈদ সমাপ্ত হয়েছে। সপ্তাহ খানেক পর এ মন্দাভাব কাটবে বলে তার ধারণা।

বাগেরহাট সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় কুমার দাশ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ঈদের কারণে কাঁচা মালের দাম কম। ঢাকা থেকে বড় বড় ব্যবসায়ীরা আসছে না।

এক সপ্তাহের মধ্যে হয়তো সবজির মূল্য বেড়ে যাবে। সবজির মূল্য বাড়লে কৃষকদের হতাশা আর থাকবে না বলেও জানান তিনি।

আরএএম/এসএফ

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad