পিরোজপুরে আমড়ার বাম্পার ফলন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

পিরোজপুরে আমড়ার বাম্পার ফলন

পিরোজপুর প্রতিনিধি ৩:৫৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৭

print
পিরোজপুরে আমড়ার বাম্পার ফলন

আমড়া সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল হিসেবে পরিচিত। এটি একটি মৌসুমী ফল। এ ফলটির রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। বাংলাদেশে ভিটামিন সমৃদ্ধ ফলের মধ্যে আমড়া অন্যতম। এর বহুমুখী ব্যবহারের জন্য সবার কাছে সমাদৃত এ ফলটি। এটি একটি অর্থকরী ফল হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছে। ফলে গ্রামীণ জনপদে বেড়ে গেছে আমড়ার চাষ ও উৎপাদন। মৌসুমে বাজার ছাড়াও পথে-প্রান্তরে প্রচুর বিক্রি হয় এই আমড়া।

.

আমড়ার জন্য বিখ্যাত বরিশাল বিভাগ। এর মধ্যে পিরোজপুর জেলার কাউখালী, স্বরূপকাঠি, ইন্দুরকানী ও নাজিরপুর উপজেলায় আমড়ার আবাদ হয় বেশি। সেখানে বাণিজ্যিকভাবে আমড়ার চাষ হয়। বাকি অন্যসব উপজেলাগুলোতেও কমবেশি আমড়ার ফলন হয়।

পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গত দুই বছরের তুলনায় আমড়ার ফলন এবারে ভালো এবং দাম চড়ার কারণে চাষিরাও খুশি। উপকূলীয় এ জেলার অধিকাংশ বাড়িতেই কম করে হলেও একটি করে আমড়া গাছ রয়েছে। রাস্তার পাশে, বাড়ির উঠানে একটি আমড়া গাছ লাগানো যেন প্রতিটি মানুষের নেশায় পরিণত হয়েছে। বহু মানুষ পতিত জমি কেটে আইল তৈরি করে, আবার কেউ কেউ ফসলি জমিতে আমড়ার বড় বড় বাগান তৈরি করেছেন। এছাড়া সরকারিভাবেও বিভিন্ন সড়কে লাগানো হয়েছে এ গাছটি।

আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত গাছ থেকে আমড়া পেড়ে স্থানীয় হাট-বাজারে নিয়ে বিক্রি করে থাকেন চাষিরা। আবার বেপারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও কিনে নিয়ে আসেন। ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট, বাসস্টেশন, বিভিন্ন হাট বাজারসহ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের সামনে ফেরিওয়ালারা কেটে মসলা মাখিয়ে বিক্রি করেন এ পুষ্টিকর ফলটি। এটি দিয়ে মজাদার চাটনি তৈরি করা যায়। এমনকি কাঁচা অবস্থায় রান্না করেও খাওয়া যায় এটি।

খুচরা বাজারে প্রতি কুড়ি (২০টি) মাঝারি সাইজের ২৫ থেকে ৩০ টাকায় আর বড় সাইজের প্রতি কুড়ি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে পিরোজপুর জেলার মধ্যে আমড়ার বড় মোকাম হচ্ছে কাউখালী ও স্বরুপকাঠিতে।

এই দুই উপজেলার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বেপারীরা জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আমড়া কিনে আড়তে নিয়ে আসেন। এরপর এখান থেকে লঞ্চ ও ট্রাকে করে প্রতিদিন শত শত বস্তা আমড়া নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানী ঢাকাসহ মুন্সিগঞ্জের বড় বড় মোকামে।

আমড়ার গুণাগুণ সম্পর্কে পিরোজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, আমড়া একটি কষ ও অম্লস্বাদ যুক্ত ফল। এতে প্রায় ৯০ ভাগ পানি, ৪-৫ ভাগ কার্বোহাইড্রেট ও সামান্য প্রেটিন থাকে। ১০০ গ্রাম আমড়ায় ভিটামিন সি পাওয়া যায় ২০ মিলিগ্রাম।

এতে রয়েছে ক্যারোটিন ২৭০ মাইক্রো গ্রাম, সামান্য ভিটামিন-বি, ক্যালসিয়াম ৩৬ গ্রাম, আয়রন ৪ মিলিগ্রাম। এছাড়া যথেষ্ট পরিমাণ পেকটিন জাতীয় ফাইবার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় উপাদান থাকে। এটি শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য দুর ও ওজন কমাতে সহায়তা করে এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। স্ট্রোক ও হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে এটি।

কাউখালী এলাকার আমড়া চাষি রুহুল আমিন জানান, মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের অধিক মুনাফার কারণে আমড়া উৎপাদনকারী গৃহস্থরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বেপারীরা গৃহস্থদের কাছ থেকে এক বস্তা আমড়া ১১/১২’শ টাকায় কিনে কাউখালী মোকামে বিক্রি করে থাকেন ১৬’শ থেকে ১৮’শ টাকায়।

স্বরুপকাঠি এলাকার আমড়া বেপারী মজিবর জানান, এ বছর আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে এ জেলায় আর দামও আগের চাইতে বেশি। সব মিলিয়ে চাষী এবং বেপারীরা এবার লাভবান হচ্ছেন।

কাউখালী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অপূর্ব লাল সরকার বলেন, ‘আমড়ার বাগান করা বা চাষ করা খুবই সহজ। রোদেলা স্থানে উচু আইল করে সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করার তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ফসল ওঠে। এ বছর কাউখালীতে আমড়া গাছে পোকার আক্রমণ না থাকায় ফলন ভালো হয়েছে।’

জেআইএল/বিএইচ/

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad