জলাবদ্ধতায় রোপা-আমন চাষ হুমকির মুখে (ভিডিও)

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট ২০১৭ | ৬ ভাদ্র ১৪২৪

জলাবদ্ধতায় রোপা-আমন চাষ হুমকির মুখে (ভিডিও)

এইচ এম আলমগীর কবির, সিরাজগঞ্জ ১২:২৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০১৭

print
জলাবদ্ধতায় রোপা-আমন চাষ হুমকির মুখে (ভিডিও)

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানি কমলেও গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও স্থায়ী জলাবদ্ধতায় সিরাজগঞ্জে রোপা-আমন ধান চাষ বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। যমুনা নদী থেকে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করার কারণে রোপা-আমন ধান চাষযোগ্য ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ফলে বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ জমিতে কৃষকরা ধান লাগাতে পারেননি।

অধিক বৃষ্টিপাত ও বন্যায় জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে চলতি ভরা মৌসুমে কৃষকরা ধান লাগাতে না পারায় সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে প্রায় ৩’শত হেক্টর জমি অনাবাদি রয়ে গেছে।

এই জমিগুলোতে ইরি-বোরো মৌসুম ছাড়াও রোপা আমনসহ তিন ফসলি আবাদ করা যেত। এখন জলাবদ্ধতার কারণে জমিগুলিতে ইরি বোরো মৌসুম ছাড়া আর কোনো আবাদ করা যাচ্ছে না বলে জানালেন ওই এলাকার কৃষকরা। এর ফলে খাদ্যে উদ্বৃত্ত কাজীপুর উপজেলা এখন খাদ্যসঙ্কটে পরিণত হতে পারে।

এদিকে যমুনা নদীর পূর্ব-পশ্চিমে বিভক্ত উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ৬টি যমুনার পূর্বে অবস্থিত।

প্রতি বছরই বন্যার ফলে নতুন নতুন এলাকা জলাবদ্ধতা হয়ে পড়ছে। আর পশ্চিমের ৬টি ইউনিয়নের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত হতে না পারায় দুই অঞ্চলই সমান তালে চাষাবাদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, এনায়েতপুর, চৌহালীসহ কাজীপুর উপজেলার চালিতাডাঙ্গা, মাধবডাঙ্গা, মাথাইলচাপর, ভবানীপুর, বরশিভাঙ্গা, চালিতাডাঙ্গা, পলাশবাড়ি, বেড়ীপোটল, কবিহার, গান্ধাইল ইউনিয়নের দুবলাই, গান্ধাইল, বরইতলা, মেরারপাড়া, কাচিহারা, উল্লাপাড়া, উদগাড়ি, কালিকাপুর ও তেকানী ইউনিয়নে উত্তর তেকানী এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ গ্রামগুলোর মধ্যে গান্ধাইল, পলাশবাড়ি, বরইতলা, দুবলাই এবং কাচিহারা গ্রামের বেশিরভাগ জমিতে রোপা-আমন ধান চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না।

জানা যায়, ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় কাজীপুর এলাকার মেঘাই ও শুভগাছা ইউনিয়নে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। পরে পার্শ্ববর্তী রতনকান্দি ইউনিয়নের রতনকান্দি হাটের সামনে দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মিত হয়।

এতে ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম বানিয়াজান খালটির মুখ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উজান থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে আবারো বন্যায় গান্ধাইল ইউনিয়নের কাচিহারা হয়ে একই ইউনিয়নের পশ্চিম বেতগাড়ী দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে আরেকটি খালের সৃষ্টি হয়।

যার প্রবাহ ইছামতি নদীতে পড়েছে। কয়েক বছরে সেই খালটির মেরারপাড়া নামক স্থানে মাটি ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মিত হওয়ায় এই এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

মাথাইলচাপর গ্রামের কৃষক লাল চাঁন মিয়া জানান, আমার পাঁচ বিঘা জমির মধ্যে এখনো দুই বিঘা জমিতে পানি আছে। পানি বাড়ানোর কোনো রাস্তা না থাকায় সেখানে কোনো চাষ করতে পারছি না।

উত্তর তেকানী এলাকার কৃষক আবেদ আলী জানান, বন্যার পানি কমলেও গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আবার জমিতে পানি দিয়ে ভরে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে জমিতে ধান লাগাতে পারি নাই।

তিনি আরো বলেন, এখন রোপা-আমন ধান চাষের মৌসুম পানির কারণে সব নষ্ট হয়ে গেল।

কাজীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, চলতি বছর বন্যায় ৩ হাজার ৭৭২ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। যা টাকার অংকে প্রায় ১২ কোটি।

এর বেশির ভাগ হয়েছে চরাঞ্চলের চাষিদের, তবে বিড়ে অঞ্চলের চাষিদের জলাবদ্ধতার কারণে আরো ১২ কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় চাষিরা চরম বিপাকে পড়েছে বলে তিনি জানান।

একে/বিএইচ/

ভিডিও...

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad