ফরিদপুরে পাটের বাম্পার ফলন, লক্ষ্যমাত্রা ৯ লাখ বেল

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৪

ফরিদপুরে পাটের বাম্পার ফলন, লক্ষ্যমাত্রা ৯ লাখ বেল

ফরিদপুর প্রতিনিধি ৬:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০১৭

print
ফরিদপুরে পাটের বাম্পার ফলন, লক্ষ্যমাত্রা ৯ লাখ বেল

ফরিদপুরকে বলা হয় পাটের জেলা। সেই ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই এই অঞ্চলের পাটের সুনাম বিশ্বব্যাপী। এই জেলার নয়টি উপজেলাতেই কম বেশী পাট উৎপাদন হয়ে থাকে। এর মধ্যে আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, মধুখালী, সালথা, নগরকান্দাতে হয় সবচেয়ে বেশী চাষ। এ বছর জেলায় পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ লাখ ২ হাজার ১৫১ বেল।

গত সাত বছরে জেলায় পাটের আবাদ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির কারণে মান সম্পন্ন পাট উৎপাদন হওয়ায় চাহিদা বাড়ার সাথে আবাদও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে কৃষিবিদদের অভিমত। কৃষকদের চাহিদা মোতাবেক পাটের মূল্য নির্ধারণ করা গেলে আবাদ আরো বাড়বে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র মতে, ফরিদপুরে সাধারণত দুই জাতের পাট আবাদ হয়। একটি হল তোসা জিআরও অন্যটি মাস্তে দেশী জাতের। এর মধ্যে তোসার আবাদ হয় সব থেকে বেশী।

সূত্রটি জানিয়েছে, গত ২০১০-১১ সালে ৭৫ হাজার ৯৬৮ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করে ৮ লাখ ৭৩ হাজার ৫৩২ বেল পাট উৎপাদন হয়, ২০১১-১২ সালে ৭৭হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করে ৬ লাখ ১৭ হাজার ২২০ বেল, ২০১২-১৩ সালে ৭১ হাজার ৪৮৩ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করে ৮ লাখ ২০ হাজার ৮১২ বেল, ২০১৩-১৪ সালে ৭৪ হাজার ৩৯৬ হেক্টর জমিতে আবাদ করে ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৪৩৯ বেল, ২০১৪-১৫ সালে ৭৪ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭০ বেল, ২০১৫-১৬ বছরে ৭৭ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ করে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৪৯০ বেল, ২০১৬-১৭ সালে ৮২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করে ৯ লাখ দুই হাজার ১৪৫ বেল পাট উৎপাদন করা হয়।

আর চলতি ২০১৭-১৮ মৌসুমে ৮২ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ লাখ দুই হাজার ১৫১ বেল। সেই হিসেব অনুযায়ী গত সাত বছরে পাটের আবাদ বেড়েছে সাত হাজার ৮২ হেক্টর জমিতে।

চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক এলাকার পাট চাষী আবুল কালাম জানান, তিনি ও তার শ্বশুড় মিলে প্রায় ৭ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। কিন্তু শ্রমিক সংকটে পাট কাটতে পারছেন না তারা।

তিনি জানান, প্রতিবছরই উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায় কিন্তু পাটের দাম বৃদ্ধি পায় না।

তিনিসহ চরভদ্রাসনের হাজীগঞ্জ, গাজীরটেক এলাকার আবদুস সবুর, কাওসার, রফিক জানান, বিগত বছরগুলোর অধিকাংশ সময়ই পাটের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা। তবে এ বছর পাটের ভাল দাম পাওয়ার আশা তাদের।

জেলার বৃহৎ পাট বাজার গুলোর অন্যতম বোয়ালমারীর সাতৈর ও সদর উপজেলার কানাইপুর এর পাট ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান এ গ্রেডের পাটের দাম ২ হাজার থেকে ২৩শ টাকা, বি গ্রেডের পাট ১৮শ থেকে ২ হাজার টাকা ও এর নিচে ১৬শ ১৭শ টাকা মন কেনা বেচা হচ্ছে।

তবে তারা জানান, ১৬শ টাকার নিচে কোনো পাট নেই।

কানাইপুরের ব্যবসায়ী বেলায়েত ফকির জানান, ফরিদপুরে সবে মাত্র পাট কাটা শুরু হয়েছে। আরো কিছুদিন পরে পাটের বাজার জমজমাট হবে। সে সময় পাটের এই মূল্য কিছুটা কমতে পারে।

তিনি জানান, ফরিদপুরের পাটের চাহিদা সব সময়ই রয়েছে। তাই মৌসুম শুরু হলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাট ব্যবসায়ী ও মিলাররা ফরিদপুরে এজেন্ট নিয়োগ করে পাট ক্রয় করেন। অন্য জেলার চেয়ে ফরিদপুরের পাটের আশের মান বিশ্বমানের। স্পিনিং মিলের মালিক বায়রারাও এই অঞ্চলের পাটের প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জি এম আব্দুর রউফ জানান, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফরিদপুরের পাটের বেশ সুনাম রয়েছে। ভৌগলিক কারণেই এই অঞ্চলের পাট উন্নত মানের। অন্য জায়গা থেকে ফরিদপুরের পাট এর উচ্চতা, রং ও আশ ভাল হয়।

প্রতিবছরই জেলায় পাটের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, শ্রমিক সংকট, সেচ খরচ বৃদ্ধি পাট চাষীদের বড় সমস্যা। এসকল সমস্যা কাটিয়ে তারা পাটের আবাদ করে আসছেন। চাহিদামত দাম পেলে এই অঞ্চলে পাটের আবাদ আরো বাড়বে।

এই অঞ্চলের পাটকে কেন্দ্র করেই জেলায় প্রতিনিয়ত পাট পণ্য উৎপাদনের মিল তৈরী হচ্ছে। এটা বেশ ইতিবাচক একটা বিষয়, কারণ এতে পাটের চাহিদা বাড়ার ফলে কৃষকের মূল্য নিশ্চিত হবে অন্যদিকে কর্মসংস্থানের একটা বিশাল বাজার তৈরী হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

টিআইএইচ/এসএফ

print
 

আলোচিত সংবাদ