চরের বুকে তাহাজ মাস্টারের আমবাগান

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৭ | ৭ কার্তিক ১৪২৪

চরের বুকে তাহাজ মাস্টারের আমবাগান

ইউনুছ আলী আনন্দ, কুড়িগ্রাম ৪:৩৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৬, ২০১৭

print
চরের বুকে তাহাজ মাস্টারের আমবাগান

নদী ভাঙনের পর জেগে ওঠা চরাঞ্চলের জনপদে চাষাবাদ করে বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন রেদওয়ানুল ইসলাম তাহাজ মাস্টার। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গোড়মণ্ডপ গ্রামের এই যুবক প্রথম দিকে পৈতৃক সম্পত্তিতে শুরু করেন পেয়ারা বাগান। ধীরে ধীরে সেই বাগানকে তিনি আম, কলা, লিচু ও সুপারি বাগানে রূপান্তর করেন।

আগে কুড়িগ্রামের মানুষ জনপ্রিয় হাড়িভাঙা ও আম্রপলি ফজলি আম  কিনতে রংপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাগঞ্জ জেলার উপর নির্ভর করতো। বর্তমান ওইসব এলাকার উপর আর তেমন নির্ভর করতে হয় না। চরাঞ্চলে উৎপাদিত তাহাজ মাস্টারের হাড়িভাঙা, আম্রপলি ও ফজলি আম এখন এলাকাবাসীর অনেকটা চাহিদা মেটাচ্ছে।

তাহাজ মাস্টার পরিবর্তন ডটকমকে জানান, হাড়িভাঙা, আম্রপলি, ফজলি মিলে তার বাগানের ৯০টি গাছের আম বিক্রি করে এ বছর তিনি ২৫ হাজার টাকা আয় করেছেন। তার উৎপাদিত আম পাইকারদের কাছে বিক্রি করার পরও এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনের কাছে বিতরণ করা হয়।

আমের পাইকার ফুলবাড়ী বাজারের রশিদুল হক (২৫) ও সহির উদ্দিন (৬০) তাহাজ মাস্টারের উৎপাদিত আম, কলা, লিচুর বাগানের ফল কিনে নিয়ে তা এলাকাবাসীর কাছে বিক্রি করেন।

এখন তাদের আর অন্য জেলার উপর ভরসা করতে হয় না বলে জানান এই ফল ব্যবসায়ীরা।

তাহাজ মাস্টার বলেন, ‘আমার এক সময় কষ্টে জীবন কাটাতাম। বেকার জীবনের অভিশপ্তের অন্ধকার আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছিল। এ অবস্থার মধ্যে এক কৃষি অফিসারের প্রেরণা ও বেকারত্ব থেকে উঠে আসার পরামর্শে চাষাবাদে নিজেকে নিবেদিত করি।’

চরাঞ্চলের পরিত্যক্ত জমিতে সবজি ও ফল-ফলাদি চাষ করে তিনি বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ টাকার মতো আয় করছেন। স্ত্রী সানজিদা সুলতানা ও একমাত্র ছেলে সিয়ামকে নিয়ে তার সংসার ভালোই চলছে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে তাহাজ মাস্টার পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার পশ্চিম ভেলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। তার কাছে পরামর্শ নিয়ে এখানকার চরাঞ্চলের অনেকে শুরু করেছেন ফল ও সবজির চাষ।

ইউএএ/বিএইচ

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad