মেহেরপুরের আমচাষিদের স্বপ্নভঙ্গ

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৭ | ৬ কার্তিক ১৪২৪

মেহেরপুরের আমচাষিদের স্বপ্নভঙ্গ

মেহেরপুর প্রতিনিধি ১২:১৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০১৭

print
মেহেরপুরের আমচাষিদের স্বপ্নভঙ্গ

সম্ভাবনাময় আম রফতানিতে ধাক্কা খেল মেহেরপুরের আমচাষিরা। চাষিদের সঙ্গে মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী আম কিনতে গড়িমশি করছেন রফতানিকারকেরা। ফলে বিদেশে রফতানির জন্য ব্যাগিং করা আম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বেশ ক’জন আমচাষি।

২০০ টন আম রফতানির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও গেল ৫ দিনে রফতানিকারকরা আম কিনেছেন মাত্র ১২ টন। এরপর থেকে আর দেখা মিলছেনা তাদের। সদুত্তর দিতে পারছে না কৃষি বিভাগও।

গাছের আম পেকে পড়ে পড়ে নষ্ট হওয়ায় প্রতিনিয়তই লোকসানের পাল্লা ভারি হচ্ছে কৃষকদের। তবে রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, সংগ্রহ করা আমের মান যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বাকি আম তারা কিনবেন কিনা।

গত বছরে ব্যাগিং করে রফতানিকারকদের কাছ থেকে আমের ভালো দাম পাওয়ায় এবারও আম রফতানিতে উৎসাহিত হয় মেহেরপুরের আমচাষিরা। কৃষি বিভাগ ও রফতানিকারকদের নির্দেশনা মোতাবেক এবার ৯ লাখ আম ব্যাগিং করেন তারা।

বিশ্বখ্যাত ওয়ালমার্ট কোম্পানির মেহেরপুরের আম নিয়ে যাওয়ার কথা ইউরোপের জার্মান, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, আমেরিকা, ইংল্যান্ডসহ ৬টি দেশে।

রফতানির জন্য ২৫ মে আম সংগ্রহ করার কথা ছিল। কিন্তু সেই আম সংগ্রহ শুরু করেন ৩১ মে থেকে। দাম দেওয়া হয় কেজি প্রতি ৮৫ টাকা। অথচ গত বছর ছিল ৯৫ টাকা। এতে হতাশ হন আমচাষিরা। কারণ প্রতি কেজি আম রফতানিযোগ্য করে তুলতে খরচ হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

তারপরও রফতানিকারকরা আম নেওয়ার সময় ব্যাগিং করা আমের ৪০ ভাগ বাদ দিচ্ছেন। এতে ক্ষোভ বাড়তে থাকে কৃষকদের মাঝে। কিন্তু ৫ দিনে ১২ টন আম সংগ্রহ করার পর আর দেখা মিলছে না রফতানিকারকদের।

আবার কোনো কোনো বাগানে এখনো শুরু হয়নি আম সংগ্রহ। ফলে গাছের আম গাছেই নষ্ট হতে শুরু করেছে। আমচাষিরা ভুগছেন চরম হতাশায়। বাড়তি খরচ করে ব্যাগিং করা আম তারা কোথায় বিক্রি করবেন তা নিয়ে চিন্তিত চাষিরা। কারণ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে গেলে উৎপাদন খরচই উঠবে না।

আমচাষি শাহিনুর রহমান জানান, ২৫০ টন আমের মধ্যে তিনি নিজেই উৎপাদন করেছেন ৫০ টন। এর মধ্যে মাত্র ৪ টন আম তার বাগান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি আম নিয়ে তিনি কি করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না।

এ ছাড়াও রোজার সময় বাজারে আমের চাহিদাও কম। এতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার লোকসান গুণতে হবে তাকে। কারণ প্রতিটি আমে ব্যাগ পরাতে খরচ হয়েছে ৫ টাকা করে। দুই লাখ ব্যাগে খরচ হয়েছে ১০ লাখ টাকা। সঙ্গে রয়েছে আনুসঙ্গিক খরচও।

একই কথা জানালেন বুড়িপোতা গ্রামের আমচাষি সিরাজুল ইসলাম। তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শ অনূযায়ী ৫০ লাখ আম ব্যাগিং করেছেন। এর মধ্যে মাত্র ৫ টন আম তার বাগান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। একই অবস্থা আমঝুপি গ্রামের খলিল জর্দ্দার, মামুন, আমদাহ গ্রামের আমচাষি হারুন-অর রশিদসহ এক্সপোর্টারদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ৭০ চাষির।

রফতানিকারক আনোয়ার হোসেন এবং রফতানিকারক সমিতির উপদেষ্টা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, ২২ মে থেকে আম সংগ্রহ করার কথা থাকলেও কোয়ারেন্টাইন অফিসারদের কারণে তারা পারেননি। আবার রফতানির উদ্দেশ্যে ঢাকায় সেন্ট্রাল প্যাক হাউজে আমগুলো নেওয়ার পর ২০ ভাগ বাদ দিচ্ছেন। ফলে রফতানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে। অথচ গত বছর মেহেরপুর থেকে আম প্যাক করে সরাসরি রফতানি করা হয়েছিল।

এখন ইউরোপে রফতানি করা আমের ভালো মূল্য পেলে পরবর্তীতে মেহেরপুরে আম সংগ্রহ করতে আসবেন তারা। অনেককে স্থানীয় বাজারে আম বিক্রি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এসএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঢাকায় আমগুলো নিয়ে যাওয়ার পর সেন্ট্রাল প্যাকিং হাউজে কিছু আম বাদ দেওয়া হচ্ছে। ফলে রফতানিকারকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এএকে/ইসি/এনডিএস  

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad