মঙ্গলবাড়িয়ার রসালো লিচু

ঢাকা, সোমবার, ২৯ মে ২০১৭ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

মঙ্গলবাড়িয়ার রসালো লিচু

এনামুল হক, কিশোরগঞ্জ ৭:৪৭ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৭

print
মঙ্গলবাড়িয়ার রসালো লিচু

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌর মঙ্গলবাড়িয়া এলাকার একটি পরিচিত গ্রাম। বিশেষ করে লিচুর সুবাদেই গ্রামটি বেশি পরিচিতি পেয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে লিচু আর লিচু। প্রায় ২০০ বছর ধরে এখানে লিচুর আবাদ হয়ে আসছে। বর্তমানে এই গ্রামে হাজার হাজার লিচু গাছ রয়েছে। গ্রামের নামেই নামকরণ হয়েছে ‘মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু’। লিচুর পরিচিতির হাত ধরে গ্রামটিও দেশব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে।

টসটসে রসালো, সুমিষ্ট স্বাদ, সুন্দর গন্ধ ও গাঢ় লাল রঙের বৈশিষ্ট্যের কারণে মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর খ্যাতি সারাদেশ জুড়ে। বছরের পর বছর ধরে মঙ্গলবাড়িয়ার সুস্বাদু লিচু মিটিয়ে আসছে ফল প্রেমীদের রসনা তৃপ্তি।

মঙ্গলবাড়িয়া ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। ইউনিয়ন জুড়ে বাগানের গাছে গাছে এখন পাকা লিচুর সমারোহ। পাকতে শুরু করায় এরইমধ্যে শুরু হয়েছে ফল আহরণ। ভরা মৌসুমে ক্রেতা-বিক্রেতা ও পাইকারদের পদচারণায় মুখর এখানকার লিচু বাগান। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগমন ঘটছে শত শত পাইকারি ও খুচরা ক্রেতাদের।

ঠিক কত বছর আগে এবং কীভাবে এখানে লিচু চাষের প্রচলন শুরু হয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও স্থানীয় মুরুব্বিদের ধারণা অন্তত কয়েকশত বছর আগে এখানে লিচু চাষ শুরু হয়েছে। এখানে উৎপাদিত লিচু ‘মঙ্গলবাড়িয়া জাত’ হিসেবেই পরিচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে এখানকার বাড়ি বাড়িতে প্রচুর লিচু গাছ লাগানো হলেও দ্রুত এর খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ শুরু হয় কয়েক দশক আগে।

বর্তমানে এ ইউনিয়নের অনেক কৃষকেরই উপার্জনের মুল উৎস লিচু চাষ থেকে উপার্জিত অর্থ। স্বচ্ছল অনেক কৃষকেরই রয়েছে ২০/৩০টি থেকে শতাধিক লিচু গাছ। লিচু চাষ এখন এ এলাকার কৃষকের জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছে। দেশ-বিদেশে লিচু বিক্রি করে অনেক চাষি উপার্জন করছেন লাখ লাখ টাকা। চাষিদের দেওয়া হিসাবমতে প্রতি মৌসুমে মঙ্গলবাড়িয়ায় লিচু বিক্রি হয় প্রায় সাত থেকে আট কোটি টাকার মতো। এলাকার অনেক চাষিদের আয়ের প্রধান উৎস এখন লিচু চাষ। শুধুমাত্র লিচু বিক্রি করেই চাষিরা তাদের সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে সক্ষম হয়েছেন। এ থেকে উপার্জিত অথের্র উপরই নির্ভর করে এখানকার কৃষকরা পরিবার নিয়ে সারা বছরের ব্যয় নির্বাহ করে থাকেন। শুধু তাই নয় লিচু বাগানে শ্রম দিয়ে কর্মসংস্থান হয়েছে শত শত শ্রমিকের।

লিচু চাষীদের বিশ্বাস প্রয়োজনীয় সরকারী ও বেসরকারি সহায়তা প্রদান করা হলে একদিকে যেমন এখানকার উৎপাদিত লিচু চাষের পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে, সেই সাথে বাজারজাতকরণের সুষ্ঠু ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে পাল্টে যেতে পারে স্থানীয় অর্থনীতির চিত্র।

লিচু চাষি সুমন মিয়া বলেন, মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু আমরা ছোট থেকে খেয়ে আসছি আমার বাপ দাদারাও খেয়ে গেছেন। এখানকার লিচু খেতেও সুস্বাদু, ঘ্রাণও সুন্দর এবং দেখতেও ভালো।

তরুণ লিচু চাষি শাহারিয়ার রিদয় বলেন, আমি একজন লিচু চাষী। আমার ৩০ টি গাছ আছে। বছরে তিন থেকে চার লাখ টাকার লিচু বিক্রি করি। এতে আমার সংসার সুন্দরভাবে চলে। সরকার আমাদেরকে সহযোগীতা করলে আমরা আরো লাভবান হব।

লিচুর পাইকারী ব্যবসায়ী ওয়াহিদ মিয়া বলেন, আমার ২০০টির মতো গাছ আছে। এসব গাছ আমি আগাম কিনে থাকি। লিচু চাষে উৎপাদন খরচ বাবদ আমার ৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখান থেকে ১১/১২ লাখ টাকার লিচু বিক্রি হবে। এই লিচু অনেক সুস্বাদু, বাইরে  থেকে অনেক লোক এখানে আসে লিচু কেনার জন্য।

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মঙ্গলবাড়িয়া জাতের লিচু খুবই ভাল। এলাকার কৃষকরা এই জাতটি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। এ লিচু আমাদের দেশের একটি বড় সম্পদ। এ সব লিচু গাছের পরিচর্যা এবং রক্ষনাবেক্ষণ কৃষি বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাধানে রয়েছে। তবে সরকার এগিয়ে আসলে আরো বেশি সুফল পাওয়া যাবে এ লিচু থেকে।

একে

print
 

আলোচিত সংবাদ