কুড়িগ্রামে ধানে ব্লাষ্ট ছত্রাকের আক্রমণ, দিশেহারা কৃষক

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জুন ২০১৭ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৪

কুড়িগ্রামে ধানে ব্লাষ্ট ছত্রাকের আক্রমণ, দিশেহারা কৃষক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ৯:৪১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০১৭

print
কুড়িগ্রামে ধানে ব্লাষ্ট ছত্রাকের আক্রমণ, দিশেহারা কৃষক

কুড়িগ্রামের সর্বত্রে বোরো ধান ক্ষেতে নেক ব্লাষ্ট রোগ দেখা দিয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলা রৌমারী, রাজীবপুর, চিলমারী, উলিপুর, কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, ফলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারীতে বোরো ধান ক্ষেতে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কায় কৃষকেরা।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে চলতি বোরো মৌসুমে ৯ উপজেলায় ১ লাখ ১০ হাজার ৫০২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়। এসব উপজেলায় ধানের ফলন ভাল দেখা গেলেও হঠাৎ করে আবহাওয়ার প্রতিকূলতায় দ্রুততম সময়ে ছড়িয়ে পড়ছে এই নেক ব্লাষ্ট (ধানের গলা পচা রোগ)।

কৃষি বিভাগ এ রোগ প্রতিরোধে কৃষকের মাঝে লিফলেট বিতরণসহ নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আক্রান্ত ক্ষেতে প্রতিষেধক হিসেবে ট্রাইসাইক্লোজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক এবং ভাল জমিতে প্রতিরোধক হিসেবে কারবেনডাজিন গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করছেন কৃষকরা। কিন্তু সংক্রামিত ধান ক্ষেতে ছত্রাক নাশক স্প্রে করেও কোনো কাজ হচ্ছে না কৃষকের। স্প্রে করার পরও এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো ধান ক্ষেতে। মূহুর্তেই ক্ষেতের ধান সাদা হয়ে চিটা হয়ে যাচ্ছে।

এ অবস্থায় কৃষি বিভাগের লিফলেট বিতরণ ও পরামর্শ মোতাবেক বোরো ক্ষেতে ট্রাইসাইক্লোজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে ওষুধের কার্যকারিতা এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে ওষুধ প্রয়োগ এই রোগের জন্য প্রযোজ্য কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কৃষকরা।

উলিপুর উপজেলার কৃষক আবুল হোসেন, আবুল কাশেম, আব্দুল মজিদ ও কাইয়ুম আলীসহ অনেকে সাংবাদিকদের জানান, কৃষি বিভাগের দেওয়া পরামর্শ মোতাবেক ধান ক্ষেতে ছত্রাক নাশক স্প্রে করেও কাজ হচ্ছে না। বিঘায় বিঘায় জমির ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। এতে আমরা কৃষকরা সর্বশান্ত হয়ে পড়ছি।

ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক আজিজুল হাকিম মণ্ডল জানান, তার এক বিঘা জমির বোরো ধান সাদা হয়ে চিটা হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ধান ক্ষেতে ওষুধ প্রয়োগ করে তার কোনো লাভ হয়নি। এমন কথা জানিয়েছেন আরও অনেকে।

এ অবস্থায় এখানকার কৃষককে ও বোরো ফসল বাঁচাতে কৃষি বিভাগসহ সরকারের দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ কামনা করেছেন এখানকার কৃষকেরা।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মকবুল হোসেন জানান, আমাদের কৃষি বিভাগের দেওয়া পরামর্শের বাইরে কিছু ব্যবসায়ী ব্লাষ্ট রোগের ওষুধ না দিয়ে কৃষকদের কাছে সাধারণ ধান পচা রোগের ওষুধ বিক্রি করছেন। আর তাই অনেক কৃষক কীটনাশক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ওষুধ কিনে স্প্রে করছেন। কৃষকের সেসব জমিতে নেক ব্লাষ্ট দমন সম্ভব হচ্ছে না।

এ রোগ বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইউএএ/এসএফ

print
 

আলোচিত সংবাদ