দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ধানে ব্লাস্ট সংক্রমণ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জুন ২০১৭ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৪

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ধানে ব্লাস্ট সংক্রমণ

খুলনা প্রতিনিধি ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৭

print
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ধানে ব্লাস্ট সংক্রমণ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ধানে ব্লাস্ট রোগে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। যা ইতোমধ্যেই মহামারিতে রূপ নিয়েছে। আক্রান্ত ধানের মধ্যে রয়েছে ব্রি-৬১ ও ব্রি-২৮ নামক ধান। এ অবস্থায় এ দু’টি জাতের ধানকে সংবেদনশীল এবং এ অঞ্চলের জন্য অনুপযোগী উল্লেখ করে তা বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে। সোমবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ করা হয়।

খুবি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মো. বশির আহমেদ ও প্রফেসর ড. সঞ্জয় কুমার অধিকারী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. সরদার মো. শফিকুল ইসলাম, প্রফেসর ড. ইয়াসিন আলী, প্রফেসর ড. মনিরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. মাহাতালাত আহমেদসহ আরো অনেকে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পাইরিকুলারিয়া অরাইজী নামক ছত্রাক থেকে বীজ, বাতাস ও পোকার মাধ্যমে ধানে ব্লাস্ট সংক্রমণ করছে। এ রোগ ধান গাছের তিনটি অংশে আক্রমন করে। আর তাই এ রোগকে পাতা ব্লাস্ট, গিট ব্লাস্ট ও শিষ ব্লাস্ট বলা হয়ে থাকে।

পাতা ব্লাস্ট হলে চারা অবস্থায় ধানের পাতা আক্রান্ত হয়। প্রথমে পাতায় ছোট ছোট ডিম্বাকৃতির দাগ সৃষ্টি করে। পরে এ দাগ দু’ প্রান্তে লম্বা হয়ে চোখের আকৃতি ধারণ করে। কয়েকটি দাগ একত্রে মিশে পাতাটিকে মেরে ফেলতে পারে। এভাবে পাতা আক্রান্ত হলে গাছটি ধীরে ধীরে ছাই রঙের হয়ে মরে যায়। গিট ব্লাস্টে ধান গাছে থোড় বের হওয়ার আগে থেকেই দেখা দেয়। এ অবস্থায় রোগ জীবাণু ছত্রাক ধান গাছের কাণ্ডের গিঁটে এবং খোল ও পাতার সংযোগস্থলে সংক্রমণ করে কালো দাগ সৃষ্টি করে পচিয়ে ফেলে। সেখানে পরে সাদা সাদা ছত্রাক দেখা যায়। কালক্রমে আক্রান্ত গিঁটের ওপরের অংশ ভেঙে ঝুলে পড়ে। এছাড়া শিষ ব্লাস্ট শিষের গোড়ায় কালো দাগের সৃষ্টি করে গোড়াটি পচিয়ে ফেলে। ফলে শিষটি গোড়ার দিকে শুকিয়ে যায়। এতে বীজ চিটা বা অসুস্থ্য হয়। অবস্থা রোগের অনুকূলে হলে ৮০ শতাংশ ফলন কমে যেতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ধান আক্রমনপ্রবণ জাতের হলে, মাটি বেলে জাতীয় ও শুকনো হলে, মাটিতে পটাশ সার কম ও ইউরিয়া সার (নাইট্রোজেন) বেশি হলে এবং আবহাওয়া রোগের অনুকূলে হলে অর্থাৎ রাতে ঠাণ্ডা, দিনে গরম ও সকালে পাতায় শিশির পড়লে সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জাত লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বোরো মৌসুমে বিআর-৩, বিআর-১৪, বিআর-১৬ ও ব্রি ধান-৪৫, আউশ মৌসুমে বিআর-৩, বিআর-১৫, বিআর-২০, বিআর-২১, ব্রি ধান-৪৩, আমন মৌসুমে বিআর-৫, বিআর-১০, ব্রি ধান-৩২, ব্রি ধান-৩৩ এবং ব্রি ধান-৪৪ উল্লেখযোগ্য।

সংবাদ সম্মেলনে বীজতলা অথবা মাঠে রোগ দেখা মাত্র জমিতে পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণ, আক্রান্ত জমিতে হেক্টর প্রতি ৮শ মিলিলিটার (বিঘা প্রতি ১শ মিলি লিটার) হিনোসান অথবা হেক্টর প্রতি ২ দশমিক ৫ কেজি (বিঘা প্রতি ৩শ গ্রাম) বেনলেট বা টপসিন এম স্প্রে করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কৃষকদের সময়মত রোগের অনুকূল আবহাওয়া সম্পর্কে অবহিত করা, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে আরও বেশি কৃষিবিদ ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদ নিয়োগের ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়।

জেএইচ/এসএফ

print
 

আলোচিত সংবাদ