টাঙ্গাইলে কলা চাষে লাভবান কৃষকরা
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২০ | ২২ চৈত্র ১৪২৬

টাঙ্গাইলে কলা চাষে লাভবান কৃষকরা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ২:৫৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০

টাঙ্গাইলে কলা চাষে লাভবান কৃষকরা

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কলার চাষ। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় এই ফসল চাষে দিনদিন আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। ধান আবাদ করে বাজারে পর্যাপ্ত দাম না পেয়ে বারবার লোকসান হওয়ায় কলা চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। কলা চাষ করে এ উপজেলায় স্বাবলম্বীও হয়েছেন অনেকেই।

উপজেলার একাধিক চাষি বলেন, কলা চাষ করে অন্যান্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভবান হওয়া যায়। কলা চাষে প্রথম অবস্থায় সাথি ফসল হিসাবে মসলা জাতীয় ফসল, সকল ধরনের সবজি, ধানসহ অন্যান্য ফসলও আবাদ করা যায়। কলা গাছের চারা রোপনের অল্প দিনের মধ্যে বেড়ে উঠে এবং দ্রুত ফল পাওয়া যায়।

বৈশাখ মাসে কলা চারা রোপন করলে অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফলন পাওয়া যায়। যে সব জমিতে পানি জমে না সে সব জমিতে কলা চাষ ভালো হয়। এক বিঘা জমিতে কলা চাষের জন্য জাতভেদে আড়াইশ’ থেকে সাড়ে তিনশ’ কলা চারা রোপন করা যায়।

একটি কলা গাছ ২ থেকে আড়াই মণ পর্যন্ত কলা দিতে পারে। এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হলেও তিন-চার গুণ টাকার কলা বিক্রি করা যায়। একবার কলা চারা রোপন করলে একটানা তিন বছর ভালোভাবে ফলন দিতে পারে। যা অন্য কোন ফসলে সম্ভব হয় না।

এখানকার কলা ভালোমান হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় করে ঢাকা, সিলেট, চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্নস্থানে নিয়ে তারা বিক্রি করে।

জানা যায়, বাণাজ্যিক ভিত্তিতে চাঁপা, মহেরে সাগর, মানকিসহ বিভিন্ন জাতের কলার চাষ করা হয়েছে। এসব জাতের কলা গাছ থেকে অল্প দিনেই ফল পাওয়া যায়।

উপজেলার কড়য়া গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান বলেন,  এবার ৪ বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সকল খরচ বাদে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকার মত লাভ হবে। কলা বিক্রি করতে কোন ঝামেলা হয় না। দেশের বিভিন্নস্থান থেকে কলা পাইকাররা এসে কলা নিয়ে যায় এবং স্থানীয় বাজারে আমাদের কলা বিক্রি করা যায়। বাজারে কলার ভালো চাহিদা আছে।’ 

চাষি সুমির হোসেন ও লিটন মিয়া বলেন, আমাদের অঞ্চলে কলার ভালো ফলন হয়। এখানকার স্থানীয় চাষি ও কৃষকরা কলা আবাদ করে কোন ধরনের লোকসান না হওয়ায় দিনদিন আগ্রহ বেড়ে চলছে। এখানকার প্রতি ছড়ি কলা প্রকারভেদে সাগর কলা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, সবজি কলা (আনাজ) ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাপা কলা ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করা যায়। এ অঞ্চলের কলা দেশের বিভিন্নস্থানে নিয়ে বিক্রি হয়। বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে কলার হাট বসে।’

ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, উপজেলায় এবার ৭০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। লাভবান হওয়ায় চাষি ও কৃষকদের কলা চাষের দিকে আগ্রহ বেড়েই চলছে। তেমন কোন ঝামেলা না থাকায় স্থানীয়রা এই ফসল চাষ করছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকেও কলা চাষিদের নানা ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে যাতে করে চাষি ও কৃষকরা লাভবান হতে পারেন।

এমএফ/

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও