৩০ টার্কিতে খামার শুরু, লাখ টাকা মাসে আয়

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ | ১ শ্রাবণ ১৪২৫

৩০ টার্কিতে খামার শুরু, লাখ টাকা মাসে আয়

জহির শান্ত, কুমিল্লা ১২:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৪, ২০১৮

print
৩০ টার্কিতে খামার শুরু, লাখ টাকা মাসে আয়

টার্কি মুরগি পালন করে সফলতা পেয়েছেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার দড়িচর গ্রামের প্রবাস ফেরত নাছির উদ্দিন। টার্কি পালনে দারিদ্র্যতা কেটে তার সংসারে ফিরেছে সচ্ছলতা; হাসি ফুটেছে স্বজনদের মুখে। সেই সাথে তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার আদর্শ খামারী। আর এ কাজে সহযোগিতা করছেন তার সহধর্মিনী মমতাজ বেগম। স্বামী-স্ত্রী মিলে দিব্যি চালিয়ে নিচ্ছেন টার্কি মুরগির খামার। ৩০টি মুরগি নিয়ে লালন-পালন শুরু করা তাদের খামারে এখন মুরগি আছে ৬ শতাধিক। প্রতি মাসে খামার থেকে টার্কি মুরগি ও ডিম বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা আয় হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে মাত্র ৩০টি টার্কি বাচ্চা নিয়ে ‘নাদিম এগ্রো টার্কি ফার্ম’ নামে খামার শুরু করেন প্রবাস ফেরত নাছির উদ্দিন। স্বামী-স্ত্রীর যৌথ পরিচর্যায় দেড় বছরের ব্যবধানে বর্তমানে তাদের খামারে ৬ শতাধিক টার্কি মুরগি রয়েছে। পালন করা এসব মুরগি বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবাহ হচ্ছেন তার পরিবার; ফিরেছে সচ্ছলতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের দেখাদেখি আশে পাশের অনেক বেকার যুবক টার্কি পালনে উৎসাহ হচ্ছেন।

খামারি নাসির উদ্দিন বলেন, আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম। দেশে ফিরে প্রথমে জমির ব্যবসা শুরু করি। কিন্তু তাতে সুবিধা করতে না পেরে ব্যবসা পরিবর্তন করতে হয়। আবার গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প হাতে নিয়ে সেখানেও অনেকটা গচ্ছা দিতে হয়। এভাবে এক সময় এসে দেখি আমার জমানো টাকা প্রায় শেষ পর্যায়ে। অবস্থা এতোই নাজুক হয়ে পড়ে যে, পরিবারের খরচ চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসে যোগাযোগ করে টার্কি মুরগি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। টার্কি মুরগি পালন করেই আমার ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে দিন দিন বাড়তে থাকে টার্কি মুরগির সংখ্যা। ৩০টি বাচ্চা নিয়ে শুরু করা আমার খামারে বর্তমানে ৬ শতাধিক টার্কি মুরগি রয়েছে। প্রতি মাসে খামার থেকে টার্কি মুরগি ও ডিম বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা আয় হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটি টার্কি মুরগি বছরে ১৮০ থেকে ২০০টি ডিম পাড়ে। এক একটি ডিমের দাম প্রায় ১৫০ টাকা। আর এক মাস বয়সী টার্কি মুরগির বাচ্চা বিক্রি হয় ৭-৮শ’ টাকা। ৬ মাসের মধ্যেই প্রতিটি টার্কি মুরগি প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে ওঠে। তখন এগুলোর গড় ওজন ৮-১০ কেজি হয়। বছরান্তে এক একটি মুরগির ওজন গিয়ে দাঁড়ায় ১৮-২০ কেজিতে।

এছাড়াও টার্কি মুরগি পালন করাও তেমন সমস্যাদায়ক কিছু না। এর খাবারও সহজলভ্য। দানাদার খাবারের পাশাপাশি সবুজ ঘাস, লতাপাতা পোকামাকড়, এমনকি সবজি খেতেও পছন্দ করে। টার্কি মুরগির রোগবালাইও তুলনামূলক অনেক কম। অন্যান্য মুরগির চেয়ে এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোমনা উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, টার্কি মুরগির খামার বর্তমানে একটি সফল ব্যবসা। দিন দিন চাহিদা বৃদ্ধির ফলে এ মুরগি পালন করে সহজেই লাভজনক হওয়া সম্ভব।

কৃষি তথ্য সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, টার্কি মেলিয়াগ্রিডিডিই পরিবারের এক ধরনের বড় আকৃতির পাখি বিশেষ। এগুলো দেখতে মুরগির বাচ্চার মতো হলেও তুলনামূলকভাবে অনেক বড়। বিশ্বের সর্বত্র টার্কি গৃহপালিত পাখি রূপে লালন-পালন করা হয়। এরা পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। পালনের জন্য উন্নত অবকাঠামো দরকার হয় না।

এরা প্রতিদিন মোট খাদ্যের ৫০-৬০ ভাগ নরম ঘাস খায়। তাই খাবার খরচ কম। রোগবালাই কম বলে চিকিৎসা খরচ কম। মাংস উৎপাদনের দিক থেকে খুবই ভালো। পাখির মাংস হিসেবে এটা মজাদার এবং কম চর্বিযুক্ত। তাই গরু বা খাসির মাংসের বিকল্প হতে পারে। আমাদের দেশে অনেকের বয়লার মুরগির মাংসের ওপর অনীহা আছে। তাদের জন্য এটা হতে পারে প্রিয় খাবার। প্রোটিনের নতুন আরেকটি উৎস হিসেবে টার্কি হতে পারে বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত।

তথ্য সূত্রে আরো জানা যায়, আমাদের দেশের অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশে পশুপাখি পালন অন্যান্য দেশের তুলনায় সহজ। আবার কিছু প্রাণী আছে যারা দ্রুত পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। আর টার্কি পাখি সে রকম একটি সহনশীল জাত। যে কোনো পরিবেশে দ্রুত এরা নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।

এরা বেশ নিরীহ ধরনের পাখি, মুক্ত অথবা খাঁচা উভয় পদ্বতিতে পালন করা যায়। ৬-৭ মাস বয়স থেকে ডিম দেয়া শুরু করে এবং বছরে ২-৩ বার ১০-১২টি করে ডিম দেয়। একটি মেয়ে টার্কির ৫-৬ কেজি এবং পুরুষ টার্কি ৮-১০ কেজি ওজন হয়। এদের মাংস উৎকৃষ্ট স্বাদের। ঘাস, পোকামাকড়, সাধারণ খাবার খেতে এরা অভ্যস্ত, তবে উন্নত খাবার দিলে ডিম ও মাংসের পরিমাণ বেশি পাওয়া যায়।

৪-৫ মাস বয়সের টার্কি ক্রয় করা ভালো, এতে ঝুঁকি কম থাকে এবং লিঙ্গ নির্ধারণ সহজ হয়। এরকম বয়সের এক জোড়া টার্কিও দাম হবে প্রায় ৪৫০০-৫০০০ টাকা। প্রথমে বাণিজ্যিকভাবে শুরু না করে ৮-১০ জোড়া দিয়ে শুরু করা ভালো, কারণ তাতে সুবিধা অসুবিধাগুলো নির্ণয় করা সহজ হয়।

এসএফ

 
.



আলোচিত সংবাদ