লামায় শসা চাষিরা লোকসানের মুখে

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

লামায় শসা চাষিরা লোকসানের মুখে

বান্দরবান প্রতিনিধি ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৮

print
লামায় শসা চাষিরা লোকসানের মুখে

বান্দরবানের লামায় চাষিরা এবার ক্ষতিকারক তামাকের পরিবর্তে শসা আবাদ করেছিলেন। কিন্তু বাজারে শসার ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, অসময়ে বৃষ্টিপাত ও রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হয়ে শসা ক্ষেতগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এ উপজেলার চাষিদের এবার আর্থিকভাবে কয়েক লাখ টাকার লোকসানের ঘানি টানতে হবে। হতাশ হয়ে পড়েছে শসা চাষিরা।

লামা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় ৫১০ একর জমিতে শসার আবাদ হয়েছে। ৬০৫ জন চাষি ক্ষতিকর তামাকের পরিবর্তে শসা আবাদ করেছে।

এর মধ্যে লামা পৌরসভায় ৭০ একর, গজালিয়া ইউনয়িনে ৬০ একর, সদর ইউনিয়নে ৬৫ একর, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ৯৫ একর, আজিজনগর ইউনিয়নে ৩০ একর, সরই ইউনিয়নে ৮০ একর, রুপসীপাড়া ইউনিয়নে ১৩০ একর ও ফাইতং ইউনিয়নে ৪০ একর জমিতে শসার আবাদ হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি শসার চাষ হয়েছে রুপসীপাড়া ইউনিয়নে। চাষিরা দেশিয় ও হাইব্রিড জাতের শসার আবাদ করেছেন বেশি।

সরেজমিন রুপসীপাড়া ইউনয়িনের দরদরী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ শসা ক্ষেত লালচে হয়ে গেছে। অজ্ঞাত রোগে শসা গাছে ফুল ও ফল ধরলেও তা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। আবাদ করা অধিকাংশ ক্ষেত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাছাড়া গত বছরেও প্রতি কেজি শসা পাইকারি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বিক্রি হয়েছে। কিন্তু চলতি বছর প্রতি কেজির পাইকারি মূল্য হচ্ছে ১০ থেকে ১৩ টাকা। যাদিও প্রতিদিন এ উপজেলা থেকে গড় ১০-১৫ ট্রাক শসা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হচ্ছে। তারপরেও লক্ষ্যমাত্রার তিনের একভাগ ফলন পাওয়া যাবে কিনা সেই শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা। 

রুপসীপাড়া ইউনিয়নের দরদরী, বৈক্ষমঝিরি ও অংহ্লা পাড়ার শসা চাষি মো. হানিফ, উহ্লামং মার্মা, সেলিনা আক্তার, রুমা আক্তার, ক্যহ্লামং মার্মা ও ছোটন বড়ুয়াসহ অনেকেই জানান, শসা আবাদে আমাদের কানি প্রতি (৪০ শতাংশ) খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু প্রতি কানিতে উৎপাদিত শসা এ পর্যন্ত বিক্রি করে পাওয়া গেছে ১৫ হাজার টাকা। এখন ক্ষেতে যে পরিমাণ শসা রয়েছে তা বিক্রি করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাওয়া যেতে পারে। এবার শসা চাষিদের কানি প্রতি ১৪-১৫ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হবে। চাষিরা অভিযোগ করেন, অজ্ঞাত রোগ-বালাইয়ে ক্ষেতের ফসল যখন নষ্ট হচ্ছে তখন কৃষি অফিসের কোনো পরামর্শ বা সহায়তা আমরা পায়নি।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের শসা চাষিরা জানান, সরকারি ও বেসরকারি সংরক্ষণাগার থাকলে তাদের এ লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির বোঝা বইতে হতো না। তারা জরুরিভিত্তিতে কাঁচামাল সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে সংরক্ষণাগার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরে আলম জানান, চলতি বছর শসার ফলন কম হয়েছে। আবার বাজারে উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় চাষিরা অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ লোকসানের প্রভাব পরবর্তী ফসলের ওপরে পড়বে। আগামীতে চাষিরা শসা আবাদে নিরুৎসাহিত হবে।

শসা ক্ষেতে রোগ বালাইয়ের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। এখন সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে গিয়ে চাষিদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও  মাঠে যাব। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হবে।

কেকে/এসএফ

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad