সাতক্ষীরায় আমের বাম্পার ফলনের আশা চাষিদের

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫

সাতক্ষীরায় আমের বাম্পার ফলনের আশা চাষিদের

ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা ১১:১১ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০১৮

print
সাতক্ষীরায় আমের বাম্পার ফলনের আশা চাষিদের

সাতক্ষীরার আম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গত ৪ বছর ধরে রফতানি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছরও সাতক্ষীরায় আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন আম চাষিরা। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমাণ মুকুল দেখা দিয়েছে। আমের মুকুলের ভারে যেন গাছের ডাল নুয়ে পড়ছে।

চলতি বছর সাতক্ষীরায় প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হচ্ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর প্রচুর পরিমাণ আমের মুকুল ধরেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সাতক্ষীরার চাহিদা মিটিয়ে এ বছর প্রচুর পরিমাণ আম দেশ-বিদেশে রফতানি হবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরায় সাতটি উপজেলায় চলতি বছর প্রায় চার হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১১৯৫ হেক্টর জমিতে, কলারোয়া উপজেলায় ৬০২ হেক্টর, তালা উপজেলায় ৭০৫ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৩৬৮ হেক্টর কালিগঞ্জ উপজেলায় ৮০৫ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ১২৫ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায়ং ১৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে।

এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে আমের বাগন রয়েছে ১৫৩০টি, কলারোয়ায় ১৩১০টি, তালায় ১৪৫০টি, দেবহাটায় ৪৭৫টি, কালিগঞ্জে ১৪২টি, আশাশুনিতে ১৯০টি ও শ্যামনগর উপজেলায় ১৫০টি আমের বাগান রয়েছে।

এখারকার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের অনুকূল হওয়ায় অন্য অঞ্চলে উৎপাদিত আমের চেয়ে সাতক্ষীরার আম খেতে বেশ সুস্বাদু।

সাতক্ষীরায় গোবিন্দভোগ, হিমসাগর, গোপালভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস, ক্ষিরসরাইসহ নানা জাতের আম বাগান রয়েছে। আম গাছের পরিচর্যার জন্য নানামুখী কর্মযজ্ঞে মেতে উঠেছে শত শত মৌসুমী শ্রমিক। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মৌসুমে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও সাতক্ষীরা জেলা থেকে প্রায় ১০০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রফতানি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত বছর যার পরিমাণ ছিল ৭০০ মেট্রিক টন।

আম চাষি দেদার আলম বুলু ও সাদেক হোসেন জানান, তারা ৮টি আমের বাগান কিনেছেন। বাগান কিনতে তাদের খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। আম বাগান পরিচর্যা করতে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আম বাগান ২০ লাখ টাকার কেনাবেচা হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, তার প্রতিটি আম বাগনে আমের গুটি আসতে শুরু করেছে। এই সময় মাঝরা পোকার ভয় থাকে গুটি কেটে দেওয়ার তাই বাগানে স্প্রে করতে হয়।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচারক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান জানান, সাতক্ষীরার আম গুণে-মানে সুস্বাদু। অন্যান্য জেলার থেকে সাতক্ষীরার আম আগে পাকে। এ জেলার মাটি আম চাষের উপযোগী। গত চার বছর ধরে এ জেলার আম ইউরোপে রফতানি হচ্ছে।

এবারও বাগান পরিচর্যা করা হচ্ছে বিদেশে আম পাঠানোর জন্য। বিশেষ করে হিমসাগর ও ন্যাংড়া।

তিনি আরো বলেন, আম চাষিদের দাবির প্রেক্ষিতে চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় উৎপাদিত আম যাতে বিদেশে যেতে কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আইকে/বিএইচ/

 
.




আলোচিত সংবাদ