বোরো আবাদে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ, দুশ্চিন্তায় কৃষক

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫

বোরো আবাদে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ, দুশ্চিন্তায় কৃষক

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ০৬, ২০১৮

print
বোরো আবাদে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ, দুশ্চিন্তায় কৃষক

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলাসহ রায়গঞ্জ-তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, কাজীপুরে এবার বোরো ধান ক্ষেতে ব্যাকটেরিয়ার লাল ও সবুজ রঙ্গের এ্যাজোলা ক্ষুদ্রপানা আক্রমণের কারণে কৃষকেরা ধানের ফলন নিয়ে হতাশায় পড়েছেন। ২/৩ মাস আগে রোপণ করা ধান ক্ষেত ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না ধানের চারা। দ্রুত এই ব্যাকটেরিয়া বংশ বিস্তার করার কারণে বিভিন্ন ধরনের বিষ প্রয়োগ করেও ক্ষেত থেকে ব্যাকটেরিয়া দূর করতে পারছে না এমনটাই অভিযোগ কৃষকের। এই প্রথম ধান ক্ষেতে নতুন ব্যাকটেরিয়া আক্রমণে ধানের বাম্পার ফলনে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার শস্য ভাণ্ডার খ্যাত সিরাজগঞ্জ জেলা। এ বছর জেলায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮শ ১০ হেক্টর। পরপর দু’বার বন্যার কারণে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বোরো মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা আটঘাট বেধে মাঠে নেমে পড়ে বোরো ধান আবাদ করার জন্য। এতে শুরুতেই পড়তে হয় লাল ও সবুজ রঙ্গের এ্যাজোলা পানা ব্যাকটেরিয়ার নিয়ে।

এদিকে ক্ষেতে সার দিলেই খেয়ে ফেলছে ব্যাকটেরিয়া। অতিরিক্ত শ্রমিক দিয়ে পানা গুলো অন্যত্র সরিয়ে ফেললেও রাতের মধ্যে তা আবার ভরে উঠছে। রোগ বালাইয়ের আক্রমণে চাষীদের হতাশা দিন দিন বাড়ছে। এছাড়া শ্রমিকদের মুজুরি ও ওষুধ কিনতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যায় এ নিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গবেষণা বিজ্ঞানীদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সলঙ্গার কৃষক আবুল হোসেন শেখ বলেন, পানার কারণে জমির ধান রক্ষা করা যাচ্ছে না। গত দুই মাস আগে জমিতে বোরো ধানের চারা লাগিয়েছি কিন্তু বড় হচ্ছে না। কৃষি বিভাগের সাথে যোগাযোগ করেছি কিন্তু তারা সঠিক ওষুধও দিতে পারছেন না। তাদের কথামতো জমিতে বিষ প্রয়োগ করেছি তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না।

একদিকে খরচ বাড়ছে অন্য দিকে সমাধানের রাস্তা পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে এবার লোকসান গুনতে হবে বলে জানালেন এই কৃষক।

কৃষক আফসার আলী বলেন, এবার প্রচণ্ড শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এর পর চারা রোপণের পর থেকে জমিতে পানায় ভরে যাচ্ছে। এগুলো পরিষ্কার করলেও রাতের মধ্যে আবারও ভরে যায়। জমিতে সার দিতে পারছি না। পানার জন্য সার চারার নিচে পৌঁছতে পারছে না। পানাতে আটকে যাচ্ছে সার। এ কারণে চারা বড় হতে পারছে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরশেদ আলী জানান, ব্যাকটোরিয়া নিম্ন শ্রেনীর উদ্ভিদ। খুব দ্রুত বংশ বিস্তার করে। এর কারণে কৃষকরা ক্ষেতে সার দিতে পারছেন না। ধানের চারাও বড় হতে সমস্যা হচ্ছে। এই রোগটি এ বছরই প্রথম দেখা গেল। আমরা ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউটের সাথে যোগাযোগ করছি। তাদের সরেজমিনে এনে দেখাবো। তারা যে নির্দেশনা প্রদান করবেন সেই মোতাবেক কাজ করা হবে। তবে এসিআই কোম্পানির জাম্প নামক ওষুধ ব্যবহার ও জমি থেকে পানি শুকিয়ে তার পর জমি খনন করে চারা রোপণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

একে/এসএফ

 
.




আলোচিত সংবাদ