উত্তরাঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সরিষা আবাদ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৪

উত্তরাঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সরিষা আবাদ

বগুড়া প্রতিনিধি ২:১১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০১৮

print
উত্তরাঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সরিষা আবাদ

উত্তরাঞ্চলের ৪ জেলায় ফসল হিসেবে সরিষা চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এবার এ অঞ্চলে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। সরিষা ক্ষেত থেকে মধু আহরণে অনেকটা বাড়তি আয় করছে ভ্রাম্যমাণ মৌচাক ব্যবসায়ীরা।

উত্তরের বগুড়া, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার পথেঘাটে সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ আর বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ রঙের সমারোহ। এ দৃশ্য যেন জুড়িয়ে যায় প্রাণ। মনকে ধারণ করে আছে সরিষা ফুলের গন্ধে ভরা সুঘ্রাণ।

গত বছর আশানুরুপ ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় এবার এ অঞ্চলের ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে সরিষার চাষ। উত্তরাঞ্চলের সিরাজগঞ্জ জেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে।

বগুড়ায় আমন ধান কাটা মাড়াই শেষ করেই চাষিরা এবার বোরো রোপণের আগে আগামজাতের সরিষা চাষ করেছে ব্যাপকভাবে। এরই মধ্যে জেলার সারিয়াকান্দি ও গাবতলী উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় জমিতে সরিষার ফুলে ফুলে মাঠ হলুদ বর্ণ ধারণ করে মিষ্টি গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে।

বগুড়ার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ মৌসুমে জেলায় এবার ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা আরো বলেছেন, যেসব এলাকায় আগামজাতের সরিষার চাষ হয়েছে সেখানে সরিষার ফুল ফুটে হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে।

বগুড়া অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের ৪ জেলায় এবার মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৮২ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে।

এর মধ্যে বগুড়া জেলায় ২৫ হাজার ৫৫৫ হেক্টর, জয়পুরহাট জেলায় ১০ হাজার ৬৯০ হেক্টর, পাবনা জেলায় ২৮ হাজার ৯৪২ হেক্টর এবং সিরাজগঞ্জ জেলায় ৫৪ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদ করা হয়েছে। গত বছর এ ৪ জেলায় মোট ১ লাখ ৫ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদ করা হয়েছিল।

সাধারণভাবে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া, নন্দীগ্রাম ও আদমদিঘি এলাকার চাষিরা সরিষা আবাদ বেশি করে থাকেন।

এবছর ভালো ফলন দেয় এমন জাতের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।

গত নভেম্বর মাসে যেসব জমিতে সরিষা রোপণ করা হয়েছে, ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারি মাসের শুরুতেই ওইসব জমির ফলন ঘরে তুলবে চাষিরা।

বগুড়ার গাবতলী-সারিয়াকান্দি সড়কের পাশের জমিগুলোতে এখন সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ ছড়াচ্ছে।

গত বছর আশানুরুপ ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় এবার এই দুই উপজেলায় ফসল হিসেবে সরিষা চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বগুড়া সদর উপজেলার দশটিকা এলাকার চাষি মোজাম্মেল হোসেন ও আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল জানান, এবার তাদের এলাকায় সরিষার ফসল বেশ ভালো হয়েছে। গত বছর প্রতি বিঘা জমিতে ৬ মণ সরিষা উৎপাদন হয়েছে। সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে তারা ভালোই অর্থ ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছে এবং লাভবান হয়েছে।

জেলার গাবতলী উপজেলার চাষি জয়নাল আবেদীন ও মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর জানান, অন্য ফসলের চেয়ে সরিষা চাষ বেশ লাভজনক। বাড়তি ফসল হিসেবে এ অঞ্চলে সরিষা চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সরিষা চাষ করে অনেক কৃষকের ঘুরছে ভাগ্যের চাকা।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এবং সরিষার ভালো মূল্য পেলে এ অঞ্চলে সরিষা চাষের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন কৃষিবিদরা।

বগুড়ার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলায় ৩ হাজার হেক্টর, আদমদীঘি উপজেলায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর ও দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ২ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদুজ্জামান জানান, এ উপজেলায় ১৭’শ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। আরো ২শ থেকে ৩শ হেক্টর জমিতে চাষ হবে। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় অনেকেই এখন সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়ছে।

গাবতলী উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মন্তেজার রহমান জানান, গাবতলীতে ১১শ’ ২০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছে কৃষকরা। এতে ১৫ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি সরিষা উৎপাদন হবে বলে তিনি জানান।

সারিয়াকান্দির ফুলবাড়ীর কৃষকরা জানান, বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করছে তারা। অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল সরিষা চাষে কৃষককে পরামর্শ প্রদান ও সহায়তা করে আসছে কৃষি বিভাগ। সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে কৃষকরা ভালোই অর্থ ঘরে তুলতে সক্ষম হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, গত বছরের চেয়েও এ বছর সরিষার ভালো ফলন হবে। সময়মত চাষাবাদ, উচ্চফলনশীল জাত ও চাষীদের মাঝে জৈব সার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

এএইচ/বিএইচ/

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad