চরাঞ্চলে বাড়ছে বাদাম চাষ (ভিডিও)

ঢাকা, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৪

চরাঞ্চলে বাড়ছে বাদাম চাষ (ভিডিও)

তরিকুল ইসলাম হিমেল, ফরিদপুর ৯:০১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০১৮

print

ফরিদপুরের সদর, চরভদ্রাসন ও সদরপুর এই ৩ উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে বাদামের আবাদ। বাদামের জন্য উপযুক্ত মাটি আর উৎপাদন ব্যয় কম কিন্তু লাভ বেশী হওয়ায় কৃষকও আগ্রহী বাদাম চাষে।

তিন উপজেলার চরাঞ্চলের বেশীর ভাগ জমিতেই হয় বাদামের আবাদ। চরাঞ্চলের এই মাটিতে বাদাম ছাড়া অন্য কোনো ফসল উৎপাদনও হয় তেমন। উৎপাদন ব্যয় কম ও লাভ বেশী হওয়ায় কৃষকও খুশি এতে।

চরের প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর জমি’র ৬ হাজার হেক্টরেই আবাদ হয় বাদাম। গত অর্থ বছরে জেলায় বাদামের উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার মেট্রিকটন। এ বছর উৎপাদন ১২ হাজার মেট্রিকটন ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা জেলা খামার বাড়ি’র।

বাংলা মাঘ মাসে বাদামের বীজ রোপণ করে ফসল তোলা যায় জ্যৈষ্ঠ মাসে। ৫ মাসের মধ্যে রোপণের অন্তত দুই মাসের মধ্যে একটি বৃষ্টি দরকার হয় বাদামের ভাল ফলনের জন্য।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, রোপণের ১/২ মাসের মধ্যে একটি বৃষ্টি বাদামের বাম্পার ফলন হতে পারে। এখন হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয় গড়ে ১ দশমিক ৬৮ মেট্রিকটন। আগামীতে এটি ২ মেট্রিকটনে নিয়ে যেতে কাজ করছে খামার বাড়ি। এ বছর জেলায় বাদাম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৪শ ৫০ হেক্টর, কিন্তু প্রকৃত আবাদ লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছে খামার বাড়ি সূত্র।

চরভদ্রাসন উপজেলার ব্যবসায়ী আবদুস সবুর জানান, তাদের এই অঞ্চলটি পদ্মা নদী ভাঙন কবলিত এলাকা। প্রতি বছরই নতুন এলাকা ভাঙে আবার নদীতে নতুন চর জাগে। চরের এই সকল জমিতে অধিক পরিমাণে বালু থাকে। তাতে অন্য কোনো ফসল ফলে না বাদাম ছাড়া। তাই চরের এই অঞ্চলের কৃষকরা বাদামের আবাদই করেন, অন্যথায় জমি পতিত থেকে যায়।

বাদাম চাষী ইউনুস মুন্সী জানান, বায়ান্ন শতকের এক বিঘা জমিতে বাদাম আবাদে সব মিলে খবর হয় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। ফলন ভাল হলে এক বিঘাতে বাদাম উৎপাদন হয় ১২ থেকে ১৬ মন। যা মৌসুমে ১৮ থেকে ২২ হাজার টাকা বিক্রি হয়।

অপর চাষী আযহার মোল্লা জানান, ফলন হলে বাদাম চাষে কৃষকের ভালই লাভ হয়, আর ফলন না হলে খরচের টাকাও উঠে না। মাঘ মাসে বীজ রোপণের পরে দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে একটা বৃষ্টি খুবই দরকার হয় বাদামের জন্য। বৃষ্টিটা সময় মত হলে বাদামের ভাল ফলন পাওয়া যায়।

চাষী খালেক চৌধুরী জানান, বাদামের আবাদ পুরোটাই প্রকৃতি’র উপর নির্ভর। কারণ চরের এই জমিতে সেচ দেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। বীজ রোপণের দুই মাসের মধ্যে বৃষ্টি না নামলে বালুর মধ্যেই বীজ পুড়ে যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী পরিবর্তন ডটকমকে জানান, সরকার বাদাম চাষের জন্য কৃষকদের বিভিন্ন সময়ে প্রণোদনা দিয়ে আসছে। এ বছরও জেলার ৩ উপজেলার ৬শ কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ ও সার বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে।

এই কর্মকর্তা বলেন, ফরিদপুরের ৩ উপজেলার চরের বেশীর ভাগ জমিই বাদাম চাষের জন্য উপযোগী। অন্যান্য ফসল ফলাতে কৃষকের যে খরচ ও পরিশ্রম দিতে হয় বাদামের ক্ষেত্রে তা হয় না। আবার বিক্রি করেও কৃষক বেশ লাভবান হয়। তাই প্রতি বছরই বাদাম আবাদের পরিমাণ ও উৎপাদন বাড়ছে জেলায়।

কার্তিক চন্দ্র এই প্রতিবেদককে আরো জানান, বর্তমানে ঝিঙা বাদাম, বিনা ৪, ঢাকা ১ ও ২ এই জাতের বীজ ব্যবহারে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, এই জাতগুলো উন্নত জাতের ও বেশী ফলন শীল। এই জাত আবাদে কৃষক আরো বেশী লাভবান হতে পারবেন। এছাড়াও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বাদাম চাষীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চরের এই সকল জমিতে অধিক পরিমাণে বালু থাকায় বাদাম ছাড়া অন্য কোনো ফসলই ফলে না, তাই কৃষক হয় জমি পতিত রাখেন নইলে বাদামের আবাদ করেন। সরকারী ভাবে কৃষকেকে আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত বীজ ও সঠিক প্রশিক্ষণ দেয়া গেলে আগামীতে ভোজ্য তেল সেক্টরে চরের এই বাদাম হতে পারে উজ্জল সম্ভাবনা।

টিআইএইচ/এসএফ

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad