প্রশ্ন ফাঁস ছাড়া পরীক্ষাটাই স্বস্তির

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫

প্রশ্ন ফাঁস ছাড়া পরীক্ষাটাই স্বস্তির

আশিক মাহমুদ ৪:০৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০২, ২০১৮

print
প্রশ্ন ফাঁস ছাড়া পরীক্ষাটাই স্বস্তির

কড়া নজরদারির মধ্যে সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের প্রথম দিনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর একটা পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলে। এবারের পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত স্বস্তির খবর, ফেসবুক কিংবা অন্যান্য কোনো মাধ্যমে এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কোনো খবর কিংবা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীরাও প্রশ্ন ফাঁস না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সোমবার দুপুরে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের সামনে কথা হয় পরীক্ষার্থী মেহেদী হাসানের সঙ্গে।

তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘পরীক্ষা বেশ ভালো হয়েছে। নৈবত্তিক কিছুটা কঠিন হলেও বাংলায় এ প্লাস পাব, আশা করছি।’

আরেক পরীক্ষার্থী নওরীন নাহার পরিবর্তন ডটকমকে জানান, হলের পরিবেশ ভালো ছিল। প্রশ্নও সহজ লেগেছে। সব চেয়ে ভালো লাগছে, এবার এখন পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো খবর পাইনি।

রাফা নামের এক পরীক্ষার্থী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘ভালো হয়েছে পরীক্ষা। সময়টা একটু কম, অল্প সময়ে ৭টা প্রশ্ন লেখা বেশ কষ্টকর।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগেই প্রশ্ন ফাঁস রোধে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ২৮টি ইউনিট মোতায়েন করে। জরুরি সেবার ‘৯৯৯’ নম্বরে এ বিষয়ে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখা হয়।

আর পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গত ২৯ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় সব ধরনের কোচিং সেন্টার।

নির্দেশ মোতাবেক বেশিরভাগ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরাও ৩০ মিনিট আগে হলে প্রবেশ করে। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মোবাইল নম্বরে সেট কোড পাঠানোর নির্দেশনা বেশ কাজে দিয়েছে।

তবে একেবারে যে চেষ্টা দেখা যায়নি, এমন নয়। ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। তবে পরীক্ষার পরে সেখানে পাওয়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া প্রশ্নের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি শেষ হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রায় সবক’টি বিভাগের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন ও জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পর্যন্ত ওঠে।

দিন শেষে প্রশ্নপত্র ফাঁস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ পরীক্ষার কেন্দ্রের বাইরে নাফিস নামের এক শিক্ষার্থীর বাবা আহমেদ নূর পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘মিডিয়া, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বোর্ড ও প্রশাসনের সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলোতেও যে এটি বহাল থাকে।’

সকালে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে মানুষের পক্ষে যা যা করা সম্ভব, আমরা সবই করেছি। আশা করছি, এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না।’

জানা গেছে, আগামী ১৩ মে পর্যন্ত হবে এইচএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা। সকালের পরীক্ষা ১০টা থেকে এবং বিকেলের পরীক্ষা হবে দুপুর দুইটা থেকে। ১৪ থেকে ২৩ মে’র মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করার কথা। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৩০ ছাত্র আর ৬ লাখ ১৮ হাজার ৭২৭ ছাত্রী। ২০১৭ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন। ২০১৮ সালে সেই সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৭১ জন বৃদ্ধি পেয়েছে।

এএম/আইএম

 
.




আলোচিত সংবাদ