শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের টোটকাও ব্যর্থ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৪

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের টোটকাও ব্যর্থ

খোলা কাগজের সৌজন্যে ১০:০০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮

print
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের টোটকাও ব্যর্থ

এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘টোটকা’ উদ্যোগও ব্যর্থ হলো। পরীক্ষার আগে মোবাইলের ইন্টারনেট বন্ধ রেখেও ঠেকানো গেল না প্রশ্নফাঁস। রোববার একঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের মধ্যেই আইসিটি বিষয়ের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পরীক্ষার আগে দেশের সব মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের এই ‘টোটকা’ সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এর আগেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রশ্নফাঁস বন্ধে নানা উদ্যোগের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমাদের সংস্থাগুলো কাজ করছে। গোয়েন্দা বিভাগ ও বিটিআরসি পদক্ষেপ নিচ্ছে। ধাপে ধাপে আমরা সবাই চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আজ (রোববার) পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল।’ তবে এসএসসির অন্য পরীক্ষায় এভাবে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু জানাননি। ওই সিদ্ধান্তের পর সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দেশের সব মোবাইল অপারেটর ইন্টারনেট বন্ধ রাখে। তবে ওই সময়ে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু ছিল।

একটি মোবাইল অপারেটরের একজন কর্মকর্তা জানান, রোববার সকালে বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেটরস বিভাগ থেকে চিঠি দিয়ে তাদের সকাল ৯টায় ইন্টারনেট বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ‘প্রযুক্তিগত কারণে’ বন্ধ করতে করতে সাড়ে ৯টা বেজে যায়। ১০টার পর আবার ইন্টারনেট সচল করা হয়।

জানা যায়, মোবাইলের ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্তের মধ্যেই গতকাল সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপে আইসিটির ‘ক সেট’ প্রশ্ন পাওয়া যায়। আর সকাল ৯টা ৩ মিনিটে ‘গ সেট’ প্রশ্নও ফাঁস হয়। এরপর তা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষা শেষে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়।

এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা প্রথম পত্রের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) ‘খ’ সেট পরীক্ষার প্রশ্নও ফেসবুকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের হুবহু মিল ছিল। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগেই তা ফেসবুকে পাওয়া যায়। ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে পরীক্ষা শুরুর প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের বহুনির্বাচনী ‘খ’ সেটের উত্তরসহ প্রশ্নপত্র পাওয়া যায় ফেসবুকে। যার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া যায়।

৫ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা শুরুর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে সকাল ৮টা ৪ মিনিটে ইংরেজি প্রথম পত্রের ‘ক’ সেটের প্রশ্ন ফাঁস হয়। যার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। ৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৪৮ মিনিট আগে সকাল ৯টা ১২ মিনিটে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের ‘খ’ সেটের গাঁদা প্রশ্নপত্রটি হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপে পাওয়া গেছে, যা অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে।

৮ ফেব্রুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষার বহুনির্বাচনী অভীক্ষার ‘খ’ সেটের চাঁপা প্রশ্নপত্রটি পাওয়া যায়। এটিও অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে। এ ছাড়াও ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা ৫৯ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপে গণিতের ‘খ-চাঁপা’ সেটের প্রশ্নপত্রটি পাওয়া যায়, যা অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে।

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad