বিদেশে কর্মী প্রেরণে ৪১ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮ | ১০ বৈশাখ ১৪২৫

বিদেশে কর্মী প্রেরণে ৪১ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ

এম এম কবীর ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ০২, ২০১৮

print
বিদেশে কর্মী প্রেরণে ৪১ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মক্ষম (ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ট)। প্রত্যেক বছর ২০ থেকে ২২ লাখ জনবল কর্মবাজারে প্রবেশ করে। এর বড় সংখ্যক বৈদেশিক কর্মবাজারে।আর এর সবই ব্যবস্থাপনা করে থাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। দক্ষ শ্রম কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বিগত ৯ বছরে (জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১৭) প্রায় ৫২ লাখ কর্মী কর্মসংস্থানের উদ্দেশে বিদেশ গেছেন।

এর মধ্যে বিদায়ী ২০১৭ সালে বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার ৪১ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ১০ লাখ ৮ হাজার ৫২৫ জন বিদেশ গেছেন। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার নারী।

এর আগে ২০০৮ সালে সর্বোচ্চ ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫ জন কর্মী বিদেশ গমন করেছিলেন। বিগত ৪১ বছরের ইতিহাসে তারপরই ৮ লাখ ৩২ হাজার ৬০৯ জন কর্মী বিদেশ গিয়েছিলেন ২০০৭ সালে।

বাংলাদেশ থেকে ২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে সৌদি আরবে। প্রায় সাড়ে ৫ লাখ বাংলাদেশি সৌদি আরবে গেছেন। এরপর মালয়েশিয়ায় ১ লাখ, ওমানে প্রায় ৯০ হাজার ও কাতারে ৮২ হাজার।

নারী কর্মীর কর্মসংস্থানও হয়েছে সবচেয়ে বেশি সৌদি আরবে, প্রায় ৮৩ হাজার। এছাড়া জর্ডানে প্রায় ২০ হাজার এবং ওমানে প্রায় ৯ হাজার নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে।

বিগত ৯ বছরে (জানুয়ারি ২০০৯ থেকে নভেম্বর ২০১৭) কর্মীদের প্রেরিত রেমিটেন্সেরর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এসেছে ১২ হাজার ৩৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০১৬ সালের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি।

বিগত বছরেই মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রম কূটনীতির সফলতায় যুক্ত হয় জি টু জি প্লাস প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে দেশটিতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ কর্মী গমন করেছেন।

বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সেক্টরে কর্মী গ্রহণের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। ফলে ২০১৭ সালে দেশটিতে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়।

এর বাইরে ২০১৭ সালের মার্চে আইএম জাপানের সঙ্গে টেকনিক্যাল কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। ফলে অচিরেই দেশটিতে বাংলাদেশিরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরিশাস ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গেও কর্মী প্রেরণ সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে নতুন বছরেও কর্মী প্রেরণের বিপুল সম্ভাবনা দেখা দেয়েছে।

২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৮টি দেশে ১৯টি নতুন শ্রম কল্যাণ উইং খোলা হয়েছে। এরই মধ্যে ২০১৭ সালে লেবানন ও মরিশাসে শ্রম কল্যাণ উইং চালু হয়েছে। বর্তমানে ২৭টি দেশের মিশনসমূহে ৩০টি শ্রম কল্যাণ উইং অভিবাসন সমর্থিত কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করছে।

সংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ভূমিকাকে স্বীকার করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ (জানুয়ারি-নভেম্বর) সালে মোট ৭ লাখ ৪২ হাজার ৫১৬ জনকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলেছে।

এছাড়া ঢাকাসহ ২৯টি জেলায় বিদেশ গমনেচ্ছুদের সেবা সহজীকরণে ফিঙ্গার প্রিন্ট কার্যক্রম বিকেন্দ্রীয়করণ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ফলে এসব জেলার কর্মীদের ফিঙ্গার প্রিন্ট কার্যক্রমের জন্য ঢাকায় আসতে হয় না। এতে করে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে।

এমকে/আইএম

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad