শোক-সংকট আর পরাজয়ে বছর পার

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫

শোক-সংকট আর পরাজয়ে বছর পার

সালাহ উদ্দিন জসিম ৮:৪৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৭

print
শোক-সংকট আর পরাজয়ে বছর পার

বছর শুরুর ঠিক আগে দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলন সারে টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নতুন কমিটি দিয়ে দল চাঙ্গা আর বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন দমন করে তাদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি থেকে সরিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ২০১৭ সাল শুরু করে দলটি।

এরপর থেকে সরকার ও দলকে পৃথক করে খুব শক্তভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছিল আওয়ামী লীগ। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পথে নিজেদের লক্ষ্য ঠিক থাকলেও কয়েকটি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নির্বাচনী বিপর্যয় ও নেতাদের মৃত্যুসহ নানা সংকটে পথচলায় বারবার ছন্দপতন ঘটে সরকার ও দলের।

এসব পরাজয়, শোক-সংকট ও দলীয় নানা সিদ্ধান্ত অবাস্তবায়িত রেখেই বছর পার করল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

২০তম জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগ একাদশ জাতীয় নির্বাচন মোকাবেলার প্রস্তুতি স্বরূপ কমিটিও করে। দল ও সরকারকে পৃথক করে দেওয়া ওই কমিটি নিয়ে বিএনপিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি থেকে সরিয়ে সঠিক সময়ে নির্বাচনমুখী করে। ইতোমধ্যে বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নীতিগত যৌক্তিকতা তুলে ধরছে। কিন্তু, আওয়ামী লীগের এ মসৃণ পথচলায় ২০১৭ সালজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ-ঘূর্ণিঝড় মোরা, পাহাড় ধস, বন্যা, বাঁধ ভেঙে হাওর তলিয়ে যাওয়া, চাল ও পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, কুমিল্লা ও রংপুর সিটিতে নির্বাচনী মহাবিপর্যয়, শীর্ষ চার নেতার মৃত্যুশোক, রোহিঙ্গা সংকট, প্রশ্নফাঁস ও ঘুষ নিয়ে সর্বশেষ শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য বারবার বিপাকে ফেলেছে।

একই সঙ্গে দলের নানা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করতে পারার অপূর্ণতাও ছিল ২০১৭ সালের সঙ্গী। বেশ রসালোভাবেই আলোচনায় ছিল কাউয়া-হাইব্রিড আর ফার্মের মুরগির তত্ত্ব।

বছর শেষে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর ‘ডকুমেন্টরি অব ওয়ার্ড হ্যারিটেজ’ বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় সব অতৃপ্তি কেটে গেছে এক রকম। বেশ উচ্ছ্বাসের সঙ্গে এ অর্জনকে গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ও দেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে উদযাপনও করেছে।

ঠিক বছর শেষে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও তার নেতৃত্বাধীন সরকারের আলোচিত এসব দিকই তুলে ধরা হলো;

৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি

২০১৭ সালের অক্টোবরের শেষে ইউনেস্কো ৭ মার্চের ভাষণকে ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ (বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই ভাষণটিসহ মোট ৭৭টি গুরুত্বপূর্ণ নথিকে একই সঙ্গে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ইউনেস্কো পুরো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দলিলকে সংরক্ষিত করে থাকে।

এমন স্বীকৃতির প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একে ইতিহাসের প্রতিশোধ হিসেবে তুলনা করেছেন। কারণ, স্বাধীন দেশে দীর্ঘসময় এই ভাষণের প্রচার নিষিদ্ধ ছিল।

কাউয়া-হাইব্রিড আর ফার্মের মুরগির তত্ত্ব

নানা সময়ে চটকদার কথা বলে পত্রপত্রিকা ও রাজনীতির মাঠে আলোচনায় ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার হাইব্রিড, কাউয়া ও মুরগি তত্ত্ব এ বছরে বেশ জোরেসোরে আলোচনায় ছিল।

২২ মার্চ সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে সংগঠনে ‘কাউয়া ঢুকেছে’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘প্রচার লীগ, তরুণ লীগ, কর্মজীবী লীগ, ডিজিটাল লীগ ও হাইব্রিড লীগ আছে। কথা হাছা সংগঠনে কাউয়া ঢুকেছে।’

হাইব্রিড, কাউয়ার পরে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরে মুজিবনগর সরকার দিবসের আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগে ফার্মের মুরগি ঢুকেছে। দেশি মুরগি দরকার, ফার্মের মুরগি নয়। ফার্মের মুরগি স্বাস্থ্যের জন্যে ভালো নয়। চার দিকে আতি নেতা, পাতি নেতায় ভরে গেছে।’

সিদ্ধান্ত বা নির্দেশেই রয়েছে ৫ ইস্যু

২০১৭ সালে বেশ জোরেসোরে দলীয় কয়েকটি কাজে হাত দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তার বেশিরভাগই সিদ্ধান্ত বা নির্দেশেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। বাস্তবায়ন হয়নি বাকপটু নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের অনেক নির্দেশনাও। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, জেলার নেতাদের মধ্যে বিরোধ মেটানো, অসুস্থ নেতাদের তালিকা করার নির্দেশনা, ঢাকা মহানগরের সব থানা ও ওয়ার্ডে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া, তিন মাসের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইশতেহার গঠনের ঘোষণা, ১০০ দিনের কর্মসূচি, নতুন সহ-সম্পাদকদের তালিকা প্রকাশ, সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন ইত্যাদি। এসব কর্মসূচি বা ঘোষণা কোনোটাই সেভাবে সফলতা বা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।  এরমধ্যে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি বিভিন্ন শাখাগুলো উদ্বোধনের কাজ হয়েছে। কিন্তু, সদস্য সংগ্রহ শেষে মুড়ি জমা এবং এর ডাটাবেজ করার কার্যক্রমের কোনো অগ্রগতি নেই।

শীর্ষস্থানীয় নেতার মৃত্যুর শোক

বছরের শুরুতে ৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং ৭ বারের নির্বাচিত এমপি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হারায় আওয়ামী লীগ। তার মৃত্যুর ধাক্কা কাটিয়ে উঠার আগেই শেষ দিকে বড় শোক নেমে আসে দলটিতে। ৩০ নভেম্বর লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তরের মেয়র আনিসুল হক। ঢাকাবাসীর প্রিয় এ মানুষটির মৃত্যুর পরপরই ১৪ ডিসেম্বর মারা যান চট্টগ্রামের নন্দিত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তার একদিন পরই মহান বিজয় দিবসে মারা যান মৎস ও পশুসম্পদমন্ত্রী মুহাম্মদ ছায়েদুল হক। একের পর এক মহীরুহের মৃত্যুতে চরম শোকবহ বছরই বলতে হবে পার করল আওয়ামী লীগ।

হাওরবাসীর দুঃখের ‘বাঁধ

বছরের মার্চ ও এপ্রিলে অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে দেশের সুনামগঞ্জ, সিলেট ও কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন হাওর পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে ২ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা বোরো ধানের প্রায় ৬০ ভাগেরও বেশি নষ্ট হয়ে যায়। এতে কৃষকদের দিশেহারা হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপাকে পড়ে সরকারও।

চাল ও পেঁয়াজে অস্বস্তি

বছরজুড়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি আলোচনায় থাকলে রেকর্ড ছাড়িয়েছে চাল ও পেঁয়াজ। পাহাড়ি ঢলে ফসল নষ্ট ও দু’দফা বন্যার ফলে এ বছর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় চালের বাজার। সর্বশেষ ৮০-৮৫ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্যের ভাতের চাল। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই ঝাজ বাড়ে পেঁয়াজেও। বছর শেষে বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজি।

ঘূর্ণিঝড় মোরা

৩০ মে ২০১৭ ভোর চারটার দিকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন এলাকায় আঘাত হানে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪৬ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগের ওই ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় জেলাসমূহে হাজার হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। কক্সবাজারে বিদ্যুৎব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। টেকনাফের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জমির ফসল এবং লবণ চাষিদের জমাকৃত লবণ নষ্ট হয়ে যায়। কক্সবাজারে দু’জন নারীসহ তিনজন এবং রাঙ্গামাটিতে দু’জন মারা গেছে।

পাহাড় ধসে সেনাসহ প্রাণহানি

পাহাড় ধস বাংলাদেশের নতুন কোনো ঘটনা না হলেও এ বছরের জুনে অতিবর্ষণে পাহাড় ধসে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অফিসারসহ প্রায় দেড়শ’ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসখ্য মানুষ।

বন্যা

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ভয়াবহ বন্যা দেশের আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এতে উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় অন্তত ৩৩ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ হয়েছে অসংখ্য মানুষ। ওইসব জেলার অনেকগুলো জেলায় রাস্তা, রেললাইন ডুবে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডুবে যাওয়ায় ভেঙে পড়ে শিক্ষা ব্যবস্থা। বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় উপদ্রুত লাখ লাখ মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও উঁচু জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

রোহিঙ্গা সংকট

ভয়াবহ বন্যায় যখন নিজেদেরই খাদ্য সংকট তখন বাংলাদেশের জন্য আসে দুঃসংবাদ। নিপীড়ক মিয়ানমার সরকার ২৫ আগস্ট রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর বর্বর নির্যাতন শুরু করে। এতে চার মাসে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখেরও বেশি। রোহিঙ্গাদের ঠাঁই দিয়ে মানবতার অনন্য নজির হিসেবে দেশের প্রধানমন্ত্রী ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’তে ভূষিত হয়েছেন। কিন্তু, রোহিঙ্গারা যেমন মানবেতর জীবনযাপন করছেন, তেমনি মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের জন্য।  নানা কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এখনো তাদের ফিরিয়ে দেওয়া বা নেওয়ার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।

দুই সিটিতে ভোট বিপর্যয়

মার্চে কুমিল্লা সিটি করোপরেশনের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর কাছে আওয়ামী প্রার্থীর পরাজয়ে অনেকটা রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে আওয়ামী লীগ। বছরের শেষ দিকে ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটি নির্বাচনে দলটিকে বড় ধাক্কা দেয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি।

দলটির মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার চেয়ে দুই গুণ ভোট কম পেয়ে আওয়ামী লীগের গতবারের মেয়র সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু দ্বিতীয় হন। অন্তত বিএনপির কাছে হারতে হয়নি এমন সন্তুষ্টির ঢেকুর গিললেও বাস্তবে ভোট বিপর্যয় ভাবিয়ে তুলেছে দলটির নেতাদের।

প্রশ্নফাঁস আর নাহিদে হাঁসফাঁস

বছরজুড়ে ক্লাস টুসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থায় একটা ব্লান্ডার অবস্থা ছিল। এরই মধ্যে বছর শেষে প্রশ্নফাঁসের সমালোচনার তীরবিদ্ধ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তার বিস্ফোরক মন্তব্যে কাঁপিয়ে দিলেন রাজনৈতিক অঙ্গন। ২৪ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা ঘুষ খাবেন, তবে সহনশীল হইয়্যা খাবেন। অসহনীয় হয়ে বলা যায় আপনারা ঘুষ খাইয়েন না, এটা অবাস্তবিক কথা হবে।’

বাংলাদেশের ঘুষের ব্যাপকতা উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘খালি যে অফিসার চোর, তা না, মন্ত্রীরাও চোর, আমিও চোর। … এই জগতে এ রকমই চলে আসতেছে। সবাইকে আমাদের পরিবর্তন করতে হবে।’

তৃতীয় সৎ নেতার ‘খেতাব’

পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্স নামের গবেষণা সংস্থা ১৭৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করেছে। এই গবেষণায় সংস্থাটি এ রকম মাত্র ১৭ জন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান পেয়েছেন যারা শতকরা ৫০ ভাগ দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ১৭৩ জন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও সৎ সরকার প্রধান হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। ৫টি প্রশ্নে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৯০। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লং, ৮৮ পেয়ে সৎ সরকার প্রধানদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন। ৮৭ নম্বর পেয়ে এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যদিও প্রতিষ্ঠানটি এবং তাদের গবেষণা নিয়ে বিতর্ক আছে।

এমনই সব শোক, সংকট মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ শুধু ব্যর্থ হয়েছে তা নয়, এগুলো কাটিয়ে উঠতে নানামুখি কাজও করেছে দলটির সরকার। যেমন: পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও হাওরে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার ও আওয়ামী লীগ। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকটে সরকারের পদক্ষেপ ছিল প্রশংসনীয়। তবে প্রশ্নফাঁস রোধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ রয়েই গেছে।

তবে এসব পরাজয়, শোক-সংকট ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অপূর্ণতা থাকলেও নতুন বছরকে নতুনভাবে সাজাতে চায় আওয়ামী লীগ। এজন্য গেল বছরের সব অপূর্ণতা বা অপ্রাপ্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে এগোতে চায় দলটি।

এসইউজে/আইএম

 
.

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ





আলোচিত সংবাদ